হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

আল-আমিন

ছবি: সংগৃহীত

দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রাখবেন। এবারের নির্বাচনে ঢাকাসহ সারা দেশে ১৬টি দেশের ৫৭ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। ইতোমধ্যে অনেক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে চলে এসেছেন। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক ভোটের দিন সকালে আসবেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন পর্যবেক্ষক ভোটের মাঠের চিত্র পরিদর্শন করছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের চ্যান্সেরি বিভাগ (কূটনীতিকদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত) কাজ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যেসব পর্যবেক্ষক ঢাকা ও বাইরের জেলাগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের আগে থেকে পুলিশকে জানাতে হবে। সে অনুযায়ী পুলিশ ওই সব এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলবে। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, ওই এলাকায় আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ঢাকার কূটনৈতিক জোন বারিধারা, গুলশান, ধানমন্ডি এলাকার পর্যবেক্ষকদের হোটেল, বাসা ও যাতায়াতের স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় বিদেশি পর্যবেক্ষক যাবেন, ওই সব জেলার এসপিদের আগাম বার্তা দেবে পুলিশ সদর দপ্তর, যাতে তাদের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি না হয়। এ বিষয়ে আইজিপি বাহারুল আলম গতকাল সোমবার রাতে আমার দেশকে জানান, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এসকর্ট দেবে পুলিশ।’

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে স্বনামধন্য অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক আসেননি। এবারের ভোট তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়ায় অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। নির্বাচনি স্পট পরিদর্শন ছাড়াও পর্যবেক্ষকরা ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন কি না তা জানার জন্য তারা সাধারণ ভোটারের সঙ্গেও কথা বলবেন। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন এবং সাধারণ ভোটারের সঙ্গে তারা যে তথ্য পাবেন, সেগুলো আবার পর্যবেক্ষরা স্ব-স্ব দেশে প্রতিবেদন জমা দিবেন। এছাড়াও ঢাকার বাইরে একাধিক জেলায় তারা ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উঠে আসে। আবার পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও উঠে আসে। এতে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে অটুট থাকে এজন্য পুলিশ পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে।

পুলিশ জানায়, নির্বাচনের পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে বড় দল পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে তুরস্ক। সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুলের নেতৃত্বে এই দলে তুরস্কের সংসদ সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়াও পাকিস্তান থেকে তিনজন, জাপান থেকে চারজন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচজন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসবেন। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন, জর্দান, জর্জিয়া, রাশিয়া, মালদ্বীপ, কিরগিজস্তান, শ্রীলঙ্কা, উজবেকিস্তান ও ইরানের পর্যবেক্ষক আসবেন। কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক আসার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে যেসব পর্যবেক্ষক আসবেন, তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করবে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। নির্বাচন উপলক্ষে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি যাতে দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি করবে তারা। এছাড়াও পর্যবেক্ষকদের দেশে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানের স্থানগুলোতে রুট প্লান তৈরি করেছে পুলিশের চ্যান্সেরি বিভাগ।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে পর্যবেক্ষকরা যেসব ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ওই সব এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে আগে থেকেই পুলিশ বার্তা পাঠাবে। হোটেল বা দূতাবাস থেকে পুলিশ তাদের এসকর্ট করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ওই সব কেন্দ্রের আশপাশের ভবনের ছাদে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পর্যবেক্ষকদের সেখানে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষ হলে তাদের অন্য ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।

সূত্র জানায়, যেসব ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোতে পর্যবেক্ষদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি করা হবে। একাধিক চেকপোস্ট ছাড়াও সন্দেহভাজনদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করবে পুলিশ। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যতক্ষণ না ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন, ততক্ষণ তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ভোটকেন্দ্রে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখে উৎসুক লোকজন যাতে ভিড় বা হট্টগোল না করতে পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখবে পুলিশ। তবে কেউ তাদের কাছে মতামত তুলে ধরতে চাইলে সে ক্ষেত্রে পুলিশ সহযোগিতা করবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মিলবে যেসব সুফল

হাসিনার জালিয়াতির তিন নির্বাচন

৪৩ জেলায় ৭০০০ কিমি ঘুরে নির্বাচনি প্রচার জামায়াত আমিরের

১৯ দিনে তারেক রহমানের ৪৩ জনসভা

ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব

ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন ভোটকেন্দ্র ও বুথের তথ্য

দুবার সংসদ নির্বাচন হয়েছিল যে বছর

কেমন ছিল ১২টি সংসদ নির্বাচন

ফল প্রকাশে নানা প্রস্তুতি ইসির স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম