হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

বিরোধী দল ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের পথে সরকার

এমরান এস হোসাইন

আমার দেশ গ্রাফিক্স

বিরোধী দলের দাবি উপেক্ষা করে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। বিরোধী দলকে বাইরে রেখেই ‘বিশেষ কমিটি’র মাধ্যমে এই সংশোধন চূড়ান্ত করতে চাইছে সরকারি দল। অবশ্য সংবিধান সংশোধনসম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগে তারা অংশ নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি দল এখনো বিরোধী দলের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবেÑএমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদের বিরোধী দলসহ বৃহৎ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অসন্তোষের মধ্যে রেখে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোলে তা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। নিকট অতীতের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত না করে সংশোধনী প্রক্রিয়া আইনগতভাবে কার্যকর হলেও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

জুলাই বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংবিধানসহ নানা ক্ষেত্রে সংস্কারসম্পর্কিত ওই জুলাই সনদে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ২৬টি দল সই করে। পরে ওই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়। এক্ষেত্রে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনের আগে সরকার ও বিরোধী দল প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও ফলাফলের পর সরকারি দলের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। সংবিধান সংস্কার আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যায়িত করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিরোধী দল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেয়। পরে সরকারের তরফ থেকে এ-ও বলা হয়, নির্বাচন ভণ্ডুলের আশঙ্কায় তারা গণভোটের পক্ষে ছিল। তবে

অসাংবিধানিক কোনো আদেশের দায়ভার তারা নেবে না।

সরকারি দল গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলেও বিরোধী দল তা বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান নেয়। বিষয়টি নিয়ে তারা সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। পরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার পরিষদ গঠন ইস্যুতে বিরোধী দলের প্রস্তাবে সংসদে সিদ্ধান্তবিহীন সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন এবং তাতে বিরোধী দলকে পাঁচজন সদস্যের নাম দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তবে বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ ফাঁকা রেখে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑচিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সরকারদলীয় জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল, বিজেপির আন্দালিভ রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অলি উল্লাহ।

অবশ্য বিরোধী দলকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের প্রত্যাশিত সংখ্যায় সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে কোনোকিছুতেই বিরোধী দলের সাড়া মেলেনি।

জানা গেছে, বিরোধী দলের বয়কটের মধ্যে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্যতা পেতে বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি। এরই মধ্যে তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে ২৬টি দলের মধ্যে ১৫টি অংশ নেয়। বিএনপিসহ দলগুলো হলোÑ১২ দলীয় জোট, ইসলামী ঐক্যজোট, জাকের পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এডিএম), নাগরিক ঐক্য, আমজনতার দল, গণফোরাম, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

এর মধ্যে সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করে। বিএনপিসহ বাকি ১৪টি দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সরকারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত রয়েছেন। ১২ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল এলডিপি (একাংশ) থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদও নিজ দলকে বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেছেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এডিএম) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ববি হাজ্জাজও নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য। মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জোটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আসন বণ্টন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তারা ওই জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

অপরদিকে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি। এদের মধ্যে জামায়াত জোটভুক্ত দলগুলো মতবিনিময়ের দিন সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান জানায়। জোটভুক্ত এবি পার্টি বিশেষ কমিটিকে চিঠি দিয়ে মতবিনিময় বর্জনের কথা জানিয়েছে। এছাড়া খেলাফত মজলিস সংবাদ সম্মেলন করে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে সে দিনের মতবিনিময় বর্জন করার পাশাপাশি ‘গণভোটের রায় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে সরকারের একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের’ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এদিকে, গত ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর পক্ষ থেকেই বিরোধী দলের সঙ্গে ভিন্নমত দূর করে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা গেলে জাতি বুঝতে পারবে জুলাই সনদ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিল যখন আসবে তখন তারা অংশ নেবে না, সেটি বলেনি। সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ার সময় দীর্ঘ বিতর্কের মধ্য দিয়ে সমঝোতা হবে বলে জানান তিনি।

সরকারদলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দল বাইরে থাকলেও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া যাতে দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়, সেজন্য রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সাবেক বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ কমিটি কোন কোন অংশীজনের সঙ্গে বসতে চায়, তার একটি ধারণাও কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী রোববার বিকালে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে কমিটি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।

সব প্রক্রিয়া শেষ করে কমিটি চলতি বছরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করে নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে সংসদে রিপোর্ট আকারে পেশ করবে বলে জানা গেছে। অবশ্য যেসব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা বলা হচ্ছে, এর প্রায় সবগুলোর সঙ্গেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন পৃথকভাবে মতবিনিময় করেছে। ফলে জুলাই সনদে যেখানে সংস্কারের প্রতিটি ধারা, বাক্য ও শব্দ আলোচনা-পর্যালোচনা করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সেখানে একই ধরনের অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকে কতটা নতুন পরামর্শ আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনের কোনো প্রক্রিয়ায়ই থাকবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। আমার দেশকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, জনগণ সংশোধনের জন্য তাদের ভোট দেয়নি। ভোট দিয়েছে সংবিধান সংস্কারের জন্য। এজন্য আমরা শুরু থেকেই সংশোধন প্রক্রিয়া বর্জন করেছি। আমাদের সে অবস্থান অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতেও এ অবস্থানের পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।

সংস্কার ছাড়া কোনো সংশোধন মানা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সংস্কারের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন অব্যাহত রাখব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাব।

বিশেষ কমিটির অন্যতম সদস্য ও সরকারদলীয় এমপি জয়নুল আবেদীন আশা প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী দল আসবে। তাদের জন্য এখনো অপেক্ষায় আছেন উল্লেখ করে আমার দেশকে তিনি বলেন, আমরা মনে করি সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের ভূমিকা থাকা দরকার আছে। তাদের জন্য আমরা পাঁচটি পদ ফাঁকা রেখেছি। আশা করি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

সংবিধানকে দেশের হার্ট উল্লেখ করে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, সংবিধান হচ্ছে দেশ পরিচালনার চাবিকাঠি। সংবিধান সংশোধন সবার অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে হোক, এটাই আমরা চাই।

বিরোধী দলকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া না গেলে সংশোধনী কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবেÑএমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা একতরফাভাবে কোনোকিছু করতে চাই না। বিশেষ কমিটি সংশোধনের সুপারিশ করবে। চূড়ান্ত সংশোধনী হবে সংসদে। সেখানে বিল আকারে এটি পাস হবে। আশা করি তখন তাদের পাব। নোট অব ডিসেন্ট আমলে নিয়ে জুলাই সনদ হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। তাই এ ধরনের উদ্যোগে যত বেশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ঐকমত্য থাকবে, এর গ্রহণযোগ্যতা তত বেশি হবে। বিরোধী দলকে সম্পৃক্ত না করে যদি কোনো সংশোধনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তা আইনগতভাবে কার্যকর হলেও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, সংসদে কার্যকর বিরোধী অংশগ্রহণ না থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা দুর্বল হয়। তাই একটি টেকসই সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দলের উচিত বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, মতবিনিময় ও যুক্তিসংগত সমঝোতার চেষ্টা করা।

বিরোধী দলকে বাদ রেখে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে একতরফা বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদের ভেতর ও বাইরের বড় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অগ্রাহ্য করে সংবিধান সংশোধন কাম্য নয়।

সংশোধনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, জনমতকে উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠলে তার পরিণতি কী হতে পারে তা নিকট অতীতেই দেখা গেছে। জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করার কারণে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। বিষয়টি সবার বিবেচনায় রাখা দরকার।

সরকারের জুলাই সনদ হুবহু বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির জবাবে তিনি বলেন, তারা জুলাই সনদ ধারণ করলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থেকে সরে যেত না। গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার তো সেদিকে যাচ্ছে না। বরং তারা গণভোট অগ্রাহ্য করেছে।

অনিয়মে ডুবছে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট

দখলবাজিতে বিলীনের পথে ধূপখোলা মাঠ

যাত্রাবাড়ীতে ব্যাপক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

পর্যালোচনায় বিতর্কিত পিডি ও কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’

অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হবে পাচার করা অর্থ বৈধ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বত্র

পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে নিরাপত্তাহীনতা

রাজধানীতে ঠেকানো যাচ্ছে না ছিনতাই, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতাবোধ

কেরোসিনের দাম এখন ভারতের দ্বিগুণ, পেট্রোলে ১৫ টাকা বেশি

আড়াই লাখ টন বেশি আমদানি, তবু কাটছে না সার সংকট