হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

দুবার সংসদ নির্বাচন হয়েছিল যে বছর

মাসুদ আলম

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১২ বার সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। তবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ১৯৯৬ সাল ছিল ঘটনাবহুল। এই বছরে দুবার সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও দ্বিতীয়তে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে দলটি।

মূলত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সংকটের সূত্রপাত। এই আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান। তার মৃত্যুতে ক্ষমতাসীন বিএনপি উপনির্বাচনের আয়োজন করতে বাধ্য হয়। এতে জয়ী হন বিএনপির কাজী সলিমুল হক। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সন্ত্রাস ও কারচুপির অভিযোগ তোলে।

সেই নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলো একযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। আর ২৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও এনডিপির সংসদ সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে টানা ৯০ দিন অনুপস্থিতি দেখিয়ে ১৯৯৫ সালের ৩১ জুলাই আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করেন স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। এর মধ্যে আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

আন্দোলন ও সহিংসতার মাত্রা বেড়ে গেলে ১৯৯৫ সালের ২৪ নভেম্বর পঞ্চম সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন ছিল একতরফা ও সহিংস। টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। বিএনপি ছাড়া প্রধান সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বয়কট করে।

নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। সংসদের অধিবেশন শুরু হয় ১৯ মার্চ। যদিও ৮ মার্চ থেকেই বিরোধী তিন দল লাগাতার সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে। সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপন করা হয় ২১ মার্চ। এটি ছিল সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল। বিলটি পরবর্তী সময়ে পাস করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৩০ মার্চ পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি ষষ্ঠ সংসদ ভেঙে দিলে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। একই দিনে প্রত্যাহার করা হয় অসহযোগ আন্দোলন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৬ এপ্রিল পদত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি একেএম সাদেক। ৮ এপ্রিল সিইসি পদে যোগ দেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আবু হেনা। ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১২ জুন।

সেই নির্বাচন হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশে। কিছু সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে ২১ বছর পরে ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৬ আসন। বিএনপি পায় ১১৬ আসন। জাতীয় পার্টি পায় ৩২ আসন। জামায়াত পায় তিন আসন। এরশাদের জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মিলবে যেসব সুফল

হাসিনার জালিয়াতির তিন নির্বাচন

৪৩ জেলায় ৭০০০ কিমি ঘুরে নির্বাচনি প্রচার জামায়াত আমিরের

১৯ দিনে তারেক রহমানের ৪৩ জনসভা

ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব

ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন ভোটকেন্দ্র ও বুথের তথ্য

কেমন ছিল ১২টি সংসদ নির্বাচন

ফল প্রকাশে নানা প্রস্তুতি ইসির স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম