ময়মনসিংহের গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের বেসরকারি কর্মী মাসুদ করিম বাবুর মৃত্যুকে ঘিরে গৌরীপুর বিক্ষোভ হয়েছে । বাবুর মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে গৌরীপুর থানা, বিদ্যুৎ অফিস ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার বিকালে ‘গৌরীপুরবাসী’র ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় গৌরীপুর পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরের ১১ হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের জাম্পার কাটার সময় হঠাৎ স্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান মাসুদ করিম বাবু। নিহত বাবু গৌরীপুর পৌর শহরের পূর্ব ভালুকা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ করিম বাবু গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের বেসরকারি কর্মী (লাইনম্যান)। মঙ্গলবার রাতে বাবুসহ বিদ্যুৎ বিভাগের আরো কয়েকজন লোক গৌরীপুর পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মোড়ে ১১ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে যান। এ সময় খুঁটিতে ওঠার আগে বাবুর সঙ্গে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ওই এলাকার ফিডার শাটডাউন দিয়ে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাবুকে খুঁটির ওপরে ওঠান।
কিন্তু ওপরে ওঠার পর বিদ্যুতের তার স্পর্শ করতেই বাবু বিদ্যুৎতায়িত হয়ে নিচে পড়ে যান। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বাবুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে।
তার এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বুধবার বিকেলে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রথমে গৌরীপুর থানা, পরে গৌরীপুর বিদ্যুৎ অফিস ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিদ্যুৎ অফিসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিদ্যুৎসংযোগ যদি বন্ধ করেই বাবুকে খুঁটির ওপরে উঠানো হয়, তাহলে খুঁটির ওপরে ওঠার পরপরই বাবু বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিটকে নিচে পড়লেন কেন? এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা হত্যাকাণ্ড। এ সময় তারা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ বলেন, বাবুর ঘরে স্ত্রী ও ১৮ মাস বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। তার আয়েই চলত সংসার। কিন্ত বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে তার অকালমৃত্যু হয়েছে কি না, সেটা আইনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হবে। কিন্তু আমরা যেন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরি না করি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গৌরীপুর উপজেলা প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) লিটন মজুমদার এর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গৌরীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের সুইচ বোর্ড অ্যাটেন্টডেন্ট এস এম মেহেদি হাসান বলেন, ‘ঘটনার দিন উপসহকারী প্রকৌশলী মারুফ স্যার দুটি ফিডার শাটডাউন করতে বললে আমি শাটডাউন দিই। বাবু নিহতের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, বাবুর মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে বিক্ষোভকারীরা থানায় এসে বিক্ষোভ করলেও এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। তাদের বলেছি অভিযোগ দিতে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ