কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে চলছে যৌথ বাহিনীর টহল অভিযান। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
হ্নীলা ইউনিয়নে দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের অজ্ঞাত নামা লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের লাশ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে হ্নীলা ইউনিয়নে নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পে পূর্বে পাহাড়ের ঝিরিতে ওই সব লাশের সন্ধান পায় পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই পাহাড়ে তিনজনের লাশ থাকার খবর পেয়েছেন তারা। লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাতে সম্ভব না হলে সকালে উদ্ধার করা হবে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
আইএসপিআর জানিয়েছে , ৫ নভেম্বর টেকনাফের হ্নীলার গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এমএইচ