বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইউপি ভবন থেকে বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। এরই মধ্যে মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সবুজ সিকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল গোমস্তার নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্র ও যুবদল নেতাকর্মী মোটরসাইকেলে করে ইউপি কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তাদের দেখে ইউপি ভবন ত্যাগ করেন চেয়ারম্যান পিকলু। পরে চেয়ারম্যানকে না পেয়ে কার্যালয়ের থাই গ্লাস, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ কজন ব্যক্তি বলেন, অতিসম্প্রতি মাহিলাড়া বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন বিএনপি নেতা সবুজ সিকদারের ভাই শাহজাহান সিকদার। সভাপতি প্রার্থী শাহজাহানের পক্ষে কাজ করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান পিকলুকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ওই নির্বাচনে শাহজাহান পরাজিত জন। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বিএনপি নেতা সবুজ সিকদার। সে কারণেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা সবুজ সিকদার বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি ইউনুস মিয়া বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।