ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন। রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত আদেশে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হয়। জেলা পরিষদ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ–২০২৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ জেলার জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠির রাজনীতি ও আইন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমানে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি ১৯৯৭ সালে ঝালকাঠি শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক, ২০১৬ সালে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৯ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। ১৯৯৬ সালে আইন পেশায় যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। এছাড়া তিনি ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝালকাঠি-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নও প্রত্যাশা করেছিলেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি আমার দল বিএনপি মূল্যায়ন করেছে। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় আমি প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্মানের পাশাপাশি বড় একটি দায়িত্ব। ঝালকাঠির মানুষের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নে জেলা পরিষদকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে চাই। সকলের সহযোগিতা নিয়ে জেলার উন্নয়নে কাজ করবো।’