বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার পর ফেরত দেওয়া কালো মানিক এবারও কোরবানির বাজারে উঠানো হচ্ছে । এবার দাম হাঁকানো হচ্ছে ২২ লাখ টাকা ।
জানা গেছে, সোহাগ মৃধা নামটি খুবই আলোচিত। পেশায় তিনি একজন আদর্শ কৃষক । গত বছরের ৫ জুন খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়ে ফেরত পাওয়া সেই কালো মানিককে বাজারে ওঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি । দাম হাঁকানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা। তবে তার মনের ভেতর ভারাক্রান্ত কষ্ট। তার প্রিয় নেত্রী বেঁচে নেই। তবু বিক্রীত অংশের কিছু টাকা দিয়ে নেত্রীর নামে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করবেন।
সোহাগ মৃধা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী।
প্রায় সাত বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন তিনি। সেই গাভির বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালো মানিক। আদর-যত্নে বড় হওয়া এই ষাঁড়ের ওজন এখন ১ হাজার ৮০০ কেজি, লম্বায় ১১ ফুট, উচ্চত ৬ ফুট। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা লালন-পালন করেছেন কালো রঙের ষাঁড়টি। এটির নাম রেখেছেন কালো মানিক। তবে এত বেশি দামের ষাঁড়টি বিক্রি নিয়ে তিনি চিন্তিত।
সোহাগ মৃধা বলেন, ‘আমার বাবা বেলায়েত হোসেন মৃধা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমি নিজেও দলের একজন সাধারণ কর্মী। ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে মনে আশা জাগে—দল যদি ঘুরে দাঁড়ায়, প্রিয় নেত্রীকে আমার প্রিয় কালো মানিক উপহার দেব। বিএনপির রাজনীতিতে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য গত বছরের ৫ জুন তিনি এই কালো মানিকটি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য উপহার হিসেবে গুলশানে ফিরোজার বাসায় নিয়ে যান। ম্যাডাম কালো মানিক গ্রহণ করেন এবং তার ছেলে জিসান মৃধাকে ফেরত দেন। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি কথা বলেন। পরিবারের সবাইকে ঈদ উপহারও দেন।
তিনি আরো বলেন, গত বছর ষাঁড়টি তিনি বিক্রি করতে পারেননি। এ বছর ওজন প্রায় ১০ মণ বেড়ে গেছে। গত বছরের চেয়ে দামও বেশি হবে।
তবে তার মনের ভেতর কষ্ট, ম্যাডাম আর বেঁচে নেই। ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে অর্থের একটি অংশ দিয়ে ম্যাডামের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করবেন।
শনিবার সোহাগের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ষাঁড়টির সেবা করছেন তিনি। ছেলে জিসান ষাঁড়টির পিঠে উঠে খেলছে। ষাঁড়টি এক নজর দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ।
সোহাগের স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি বলেন, ষাঁড়টি আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। ওকে খুব যত্নে বড় করেছি। ষাঁড়টির জন্য দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার খাবার প্রয়োজন, যা খুবই ব্যয়বহুল।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, সোহাগ আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী। ২০২৩ সালের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের পর থেকেই তার ইচ্ছা জাগে দল ঘুরে দাঁড়ালে ম্যাডামকে এ ষাঁড়টি উপহার দিবেন। আমরা সবাই তখন তাকে নিষেধ করি। কিন্তু সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ম্যাডামকে উপহার দেওয়ার জন্য কালো মানিকটি তিনি ঢাকায় নিয়ে যান। ম্যাডাম গ্রহণ করে আবার তার ছেলেকে ফেরত দেন। এখন ষাঁড়টি তিনি বিক্রি করতে চান।