ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রোষানলে পালিয়ে থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কামাল উদ্দিন সৈকত: উপজেলার আনজুর হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী (শিক্ষক আইসিটি) কামাল উদ্দিন। তিনি সৈকত চরকলমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পতিত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অবৈধ মন্ত্রীসভার সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর এমন কোনো অপকর্মে নাই যে সে করেননি। অসহায় শত শত পরিবারের জমি দখল করে জোরপূর্বক জ্যাকবের খামার বাড়ি নির্মাণ করতে তার সহায়তা ছিল শীর্ষে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ভোলার- ৪ প্রভাবশালী সংসদ জ্যাকব আটক হয়ে কারাবন্দি আছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে চরকলমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আইসিটি শিক্ষক কামাল উদ্দিন সৈকতও পালিয়ে গেছে। স্কুল না গিয়ে আত্মগোপনে থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিক কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। পাশাপাশি আত্মগোপনে থাকা শিক্ষক কামাল উদ্দিন সৈকতও কল রিসিভ করেননি।
মো. নজরুল ইসলাম: চরমাদ্রাজ ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে স্থানীয় মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও নারীঘটিত অনেক ঘটনার নায়ক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে একদিনও মাদ্রাসায় আসেননি। নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। কোথায় আছেন প্রতিষ্ঠানের কেউই জানে না।
চরমাদ্রাজ ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির সরমান আমার দেশকে বলেন, কম্পিউটার অপারেটর নজরুলের হাজিরা খাতায় লাল কালি দিয়ে মার্ক করা হচ্ছে। চলতি মাস থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হবে।
জয়নাল হাজারী: মিয়জানপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার অফিস সহকারী। হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আ. রাজ্জাক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মগোপন চলে যান। স্বৈরাচারের দোসরদের ব্যবস্থা করে চলে গেছেন সৌদি আরব।
প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়নাল হাজারী বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ওসমানগঞ্জ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ, দুলারহাট নীলিমা জ্যাকব কলেজ ও দক্ষিণ আইচা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ ও একাধিক শিক্ষক আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এদিকে মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের সহকারী শিক্ষক ও অধ্যক্ষ আত্মগোপনে থাকায় সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি পলাতক শিক্ষকদের নাম প্রতিষ্ঠানের এমপিও তালিকা থেকে কর্তন করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানান, অনুপস্থিত থেকে কোনো অধ্যক্ষ ও সহকারী শিক্ষক বেতন-ভাতা নিয়ে থাকলে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।