দীর্ঘ ৪৫ দিনের উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কফিনবন্দি হয়ে নিজ ভূমি সন্দ্বীপে ফিরলেন কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধা জাহেদ। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জানাজা শেষে সন্দ্বীপের রহমতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত ৫ মার্চ কুয়েতে উট চরানোর সময় পার্শ্ববর্তী স্থাপনায় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান জাহেদ। এরপর থেকে আইনি জটিলতা এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মরদেহটি বিদেশের মাটিতেই আটকে ছিল। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে বিদেশের হিমঘরে পড়ে থাকার পর অবশেষে আজ সকালে তার নিথর দেহ ঢাকা বিমানবন্দর হয়ে সন্দ্বীপে এসে পৌঁছায়।
রহমতপুরের কামাল দফাদারের বাড়িতে জাহেদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সবচেয়ে করুণ দৃশ্য দেখা যায় জাহেদের চার বছরের প্রতিবন্ধী শিশুসন্তান জিসানকে ঘিরে। অভাবের কারণে আড়াই বছর আগে যাকে রেখে প্রবাসে গিয়েছিলেন, সেই বাবার নিথর দেহ দেখেও অবুঝ শিশুটি বুঝতে পারছে না তার মাথার ওপর থেকে ছায়া চিরতরে সরে গেছে।
স্বজনরা জানান, জাহেদের বড় আক্ষেপ ছিল ছেলের আকিকা দিতে না পারা। এবারের ঈদের পর বাড়ি ফিরে ঘটা করে আকিকা দেওয়ার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা ড্রোন হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
জানাজায় উপস্থিত এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান ও বীমার টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।