হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

অবশেষে সেনা অভিযানে ধরা ডাকাত শাহীন

আনছার হোসেন, কক্সবাজার

কক্সবাজার পাহাড়-সমতলের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাত অবশেষে সেনা অভিযানে ধরা পড়েছে। অভিযানে সহায়তা দেয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউচপাড়া এলাকায় তার শ্বশুর শাকের মেম্বারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইতোপূর্বে যৌথভাবে বারবার চেষ্টা করেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সেনাবাহিনীর চৌকস দলের অভিযানে শাহীন ডাকাত গ্রেপ্তার হওয়ায় পুরো এলাকার জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সেনাবাহিনীর কক্সবাজার ঝিলংজা ক্যাম্পে দায়িত্বরত মেজর শাহরিয়ার ডাকাত শাহীনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় র‌্যাব-১৫ গর্জনিয়ায় ধৃত শাহীনের বাড়ির সামনে যৌথ প্রেসব্রিফিং করেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি।

অভিযানকালে ডাকাত শাহীন ছাড়াও তার দু’সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে আছে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি একে-২২ রাইফেল, ১০ রাউন্ড গুলি ও চারটি কার্তুজ ও ১০টি দেশীয় ধারালো কিরিচ এবং ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও সেনাবাহিনী ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ব্রিফিংকালে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফট্যানেন্ট কর্নেল মনোয়ার হোসেন, র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক কর্নেল কামরুল হাসান ও বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল কফিল উদ্দিন। তারা অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রামু উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অস্ত্র, গরু, মাদক চোরাচালানসহ বহু মামলার আসামি, শাহীনুর রহমান শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীনের ডেরায় ২৫ মে অভিযান চালিয়েছিল যৌথবাহিনী। ওই অভিযানে অস্ত্র, মাদক, জাল টাকা ও ওয়াকি-টকি উদ্ধার হলেও কৌশলে সটকে পড়েছিলেন ডাকাত শাহীন।

র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ.ম. ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডস্থ মাঝিরঘাটা গ্রামের পলাতক আসামি শাহীনুর রহমান শাহীন একজন অস্ত্রধারী ডাকাত। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৯টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য মতে, সিআর ও জিআর মামলা এবং সাধারণ ডাইরিসহ (জিডি) অন্তত ১৯ মামলার পলাতক আসামি এই ডাকাত শাহীন। তার দু’ডজন মামলার মধ্যে ৯টি ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও ছিনতাই, চারটি হত্যা মামলা, দু’টি অস্ত্র মামলা, দু’টি মাদক মামলা এবং বাকিগুলো বিভিন্ন থানায় জিডি হিসেবে রয়েছে।

সীমান্ত জনপদের আতঙ্ক ডাকাত শাহীন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত জনপদের এক আতঙ্কের নাম ডাকাত শাহীন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সীমান্ত এলাকার লোকজন। তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহসও পাচ্ছে না। ফলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে শাহীনুর রহমান শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীন। খুন, ডাকাতি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, একচ্ছত্রভাবে গরু ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ, মতের বিরোধ থাকা লোকজনকে এলাকা ছাড়াসহ এমন কোনো অবৈধ কাজ নেই যা সে করে না।

ধনীর দুলাল থেকে শীর্ষ ডাকাত

তাদের মতে, শাহীনুর রহমান শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীন হচ্ছে মূলত ধনীর ঘরের আদরের দুলাল। কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ার জমিদার হাজী ইসলামের সন্তান। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল সন্তান বড় হয়ে গর্জনিয়ার হাল ধরবে। হাল ধরেছে ঠিকই, তবে তা সমাজসেবা বা এলাকার মানুষের কল্যাণে নয়।

একের পর খুন, ডাকাতি, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, একচ্ছত্র গরু, মাদক ও সিগারেট পাচার নিয়ন্ত্রণ, মতের বিরোধ থাকা লোকজনকে এলাকা ছাড়াসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু সীমান্তের জনপদে। গর্জনিয়ায় পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি, বিজিবি ক্যাম্প থাকলেও সেখানে আইন চলে কেবল শাহীনের।

বলা যায়, শাহীনের হাতে স্বাধীন দেশের পরাধীন এক ভূখণ্ড রামু ও পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শাহীনের হাতে খুনের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রকাশ্যে খুনের তথ্য এলাকাবাসী জানলেও সীমান্তে লোকচক্ষুর আড়ালে তৈরি করা মৃত্যুপুরীর পরিসংখ্যান থেকে যাচ্ছে আড়ালে! যুবক, বৃদ্ধ, নারী, এমনকি পেটের অনাগত সন্তানও রেহাই পায়নি এই শাহীনের হাত থেকে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে শাহীনকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পাঠালেও সেদিকে মন না দিয়ে চলে আসেন গ্রামে। অপরাধ জগতে পা দেয় ঈদগড়ের ভয়ংকর ডাকাত কালু, কলিমুল্লাহসহ কয়েকজনের হাত ধরে। শুরুতে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে ডাকাতি করতে গিয়ে আটক হয়ে জেলে গিয়েছিলেন শাহীন। সেখান থেকেই ঘুরে যায় তার জীবন। সন্ত্রাসীদের অনুসারী থেকে হয়ে উঠেন সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান। ২০১২ সালে সন্ত্রাস জগতে পা রাখা শাহীন এখন সীমান্তের অপরাধ জগতের ‘ডন’।

সূত্র মতে, ৫০০ থেকে এক হাজার বার্মিজ গরু অবৈধভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি গরু থেকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয় শাহীনকে। শুধু গরু নয়, সাথে আসে আইস, ইয়াবা, সিগারেটসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদক, যার মূল নিয়ন্ত্রক এই শাহীন। গরু, আইস, ইয়াবা, সিগারেট চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সীমান্তের এই এলাকায় বেড়ে গেছে খুনোখুনির ঘটনাও। শাহীনের গরু এবং ইয়াবা পাচারে কেউ ন্যূনতম বাধা দিলেও তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানায় এলাকাবাসী। এভাবে এক এক করে সীমান্তের এই এলাকাগুলোতে গেলো কয়েক বছরে অন্তত ডজনাধিক খুনের নেতৃত্ব দিয়েছেন শাহীন।

ডাকাত শাহীনের নৃশংসতা

ভুক্তভোগীদের মতে, সেদিন ছিল ২০২৩ সালের ৩ মার্চ। এদিন ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হয় গর্জনিয়ার বেলতলীর মানুষ। নাইক্ষ্যংছড়ির শফিউল্লাহর ছেলে ইরফানকে ডাকাত শাহীন তার নিজের মোটরসাইকেলে বসিয়ে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে নৃশংসভাবে। যে খুনের কথা এখনও ভুলতে পারেননি এলাকার মানুষ।

ডাকাত শাহীনের তেমনই আরেক শিকার স্থানীয় আবুল কাশেম। ২০২৪ সালের ৮ মে মধ্যরাতে শাহীন তাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নারাইম্মাজিরি পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে হত্যা করে।

নিহত আবুল কাশেমের ভাই মো. শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, ডাকাত শাহীন গ্রুপের নেতৃত্বে ৪০ জন সন্ত্রাসী বাহিনী ভারি অস্ত্র নিয়ে তার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে পাহাড়ে নিয়ে যায়। এরপর গুলি করে হত্যা করে। আবুল কাশেম কৃষি কাজের পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ডাকাত শাহীনের নেতৃত্বে অবৈধ গরু পাচারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আবুল কাশেম। যে কারণেই তাকে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

তাছাড়া গরু পাচারে বাধা দেয়ার চেষ্টা করায় ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ গর্জনিয়ার থিমছড়ির আহমদুর রহমানের ছেলে আবু তালেবকেও নির্মমভাবে হত্যা করে এই ডাকাত শাহীন।

এমএস

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ছয় পদে বিএনপির জয়

কুসিক প্রশাসক পদে আলোচনায় টিপু ও আবু

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১০ দোকান পুড়ে ছাই

দেড় বছর পর আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলা-ঢাকা বাস চলাচল শুরু

প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী দাগনভূঞায়, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে

চট্টগ্রামে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ নিহত তিন জনের বাড়ি শোকের মাতম

পাহাড় কাটার দায়ে বিপিসিকে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

মিয়ানমারে পাচারকালে ১৮০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৮ পাচারকারী আটক

মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, চিরকুট নিয়ে রহস্য