চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মোটরস্টেশনের বিভিন্ন স্থানের ফুটপাত ও মহাসড়ক পার্শ্ববর্তী অংশ দখল করে প্রতিদিন কয়েক শত দোকান বসে। আকারভেদে প্রত্যেক দোকানিকে গুনতে হয় ২০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত । এসব অবৈধ ভাসমান দোকানের কারণে পথচারী-যাত্রীদের যানজট ও চলাচলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার মোটরষ্টেশনের বিভিন্ন মার্কেটের সামনের ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে ২০০ অধিক দোকান। এসব অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে পান, সুপারি, পরিধানের কাপড়, মাছ, মাংস, ফল, কাঁচা সবজি, আদা, পেঁয়াজ, রসুন, ফলমূল, শুঁটকি মাছ।
অন্ধকার ঘনিয়ে এলে হলে যোগ হন মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা দিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে অবিক্রীত মাছগুলো এখানে এনে বিক্রি করছেন। তাছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকালে ভ্রাম্যমাণ দোকান আরও বেড়ে যায়। এতে প্রায় পুরো সড়ক দখল হয়ে যায়।
পথচারী ও স্থানীয়রা অভিযোগ, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ভাসমান দোকানের বসার কারণে সড়কে যানজটের মতো সমস্যা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পথচারী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দোকানগুলো অভিযান পরিচালনা করে তুলে দিলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার বসে। ফুটপাত দখলের কারণে যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয় মূল সড়ক দিয়ে। এমনকি পথচারীদেরও হাঁটতে হয় গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে।
ভাসমান এসব ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে দোকানভেদে দৈনিক তিন দফায় ২০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। একজন ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, তাদের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য যে দোকানের সামনে বসবে ওই দোকানের মালিক, ইজারাদার, শহর পরিচালনা কমিটিকে তিন দফায় চাঁদা দিতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ফুটপাতের ওপরে কয়েকটি মাত্র দোকান ছিল। ক্রেতাদের ভিড় বাড়ায় কেনাবেচাও বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে দোকানের সংখ্যা। এখন এখানে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মিলিয়ে একশর মতো দোকান।
জনতার-অভ্যুত্থানের পূর্বে এসব দোকান আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীরা শহর উন্নয়ন কমিটি নামে পরিচালনা করত। তবে ছাত্র জনতার-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত একটি কমিটি শহর পরিচালনা কমিটি নাম দিয়ে পরিচালনা করছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ।
পথচারী আমিনুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত দখল করে যেভাবে দোকান খুলে বসেছে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। ফুটপাত দখলের ফলে পথচারী ও যাত্রীদের ফুটপাত এড়িয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
অপর যাত্রী মাইশা জানান, মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী অংশে বাজার ও ভাসমান দোকান স্থাপনের কারণে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারি না। ফলে মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। মহাসড়কে চলাচল করতে গিয়ে অনেকে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
এ বিষয়ে বটতলী বাজার ইজারাদার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সড়কে দোকান বসাতে বলিনি। বারবার সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছি। বিভিন্ন কমিটির নামে টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু আমরা বৈধ ইজারাদার হয়েও টাকা উত্তোলনে বাধা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা কাজী নুরুল আলম বলেন, গতকালও আমরা ফুটপাত দখল করে যারা ভাসমান দোকান বসিয়েছে তাদের ডেকে না বসার জন্য নিষেধ করেছি এবং অনেকে সে নিষেধ অমান্য করে বসছে। তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদা আদায়ে বিষয়ে তিনি আরো বলেন, শহর পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বাবদ রশিদের মাধ্যমে দৈনিক চাঁদা নেওয়া হয়। এর বাইরে রশিদবিহীন টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা এসব অবৈধ দোকানের কারণে বটতলীতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া এ বাজারকে ঘিরে চলে খোলামেলা চাঁদাবাজি। এমনও ঘটনা ঘটেছে একজন দরিদ্র কৃষক যে টাকার সবজি বিক্রি করেছেন সেই পরিমাণ টাকা চাঁদা দিয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন। তাই সড়কে শৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি বন্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, এসব অবৈধ দোকান বন্ধে সড়ক ও জনপদ বিভাগকে নিয়ে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। চাঁদাবাজির বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। করলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ