হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদনের প্রস্তুতি আসলাম চৌধুরীর

প্রার্থিতা বাতিলের রায়

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

আসলাম চৌধুরী। ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা এবং নতুন নির্বাচনি সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে।

সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও একটি ব্যাংকের আপিলের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় প্রদান করে, যার ফলে তার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায় বলে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।

রায় ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা দেয়, যার জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে টায়ার জ্বালিয়ে ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে, ফলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দলীয় ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরপরই উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদনসহ প্রচলিত সব আইনি প্রতিকার গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে এবং একই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), নির্বাচন কমিশনের বিধান এবং পূর্ববর্তী বিচারিক নজিরগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী ধাপে শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা যায়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রার্থিতা বাতিল বা নির্বাচনি অযোগ্যতা সংক্রান্ত মামলায় রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সাংবিধানিক সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মূল রায়ের তথ্য-প্রমাণ, ঋণের প্রকৃতি ও পুনঃতফসিলীকরণের সময়কাল এবং আইনি ব্যাখ্যার সূক্ষ্ম দিকগুলোর ওপর।

রায়ের পর সীতাকুণ্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ এটিকে রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখলেও অন্য অংশ এখনো উচ্চ আদালতের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক মামলা, কারাবাস ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও আসলাম চৌধুরী-এর স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক ভিত্তি এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা এই আইনি সংকটে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, কর্মীদের শান্ত থাকা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি এড়িয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ অব্যাহত রাখা এবং আইনি লড়াই সম্পূর্ণভাবে আদালতের মাধ্যমেই পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির প্রার্থিতা নয়, বরং চট্টগ্রাম-৪ আসনের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্য, ভোটের মনস্তত্ত্ব এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনি কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে সম্ভাব্য আইনি রিভিউ, নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী অবস্থান এবং ভবিষ্যতে উপনির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান নতুন মোড় নিতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না আসা পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যুই নির্বাচনি মাঠের প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে থেকে যাবে।

এমএইচ

ফুটপাত দখল করে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজি

শ্রীমঙ্গলে তুলাবোঝাই ট্রাকে অগ্নিকাণ্ড

ফগার মেশিন কাঁধে নিয়ে এমপির মশক নিধন উদ্বোধন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় রামগঞ্জের এক প্রবাসীর মৃত্যু

পরশুরামের যুবকের লাশ সেনবাগে উদ্ধার

১৭ বছর অপেক্ষা শেষে আরসিসি ঢালাই

২২ দিনেও সন্ধান মেলেনি ফারজানার

‎পরশুরাম সীমান্তের ৫০ পয়েন্ট দিয়ে আসছে ভারতীয় পণ্য

এক সপ্তাহ পার হলেও উদঘাটন হয়নি রহস্য

রাষ্ট্র জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ঋণী: হুইপ নিজান