কুমিল্লার বরুড়ায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। কারণ, শুভেচ্ছা জানানো এসব ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদধারী নেতা।
গত শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়ায় নিজ বাড়িতে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এরপর এ ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন। নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।
এরপর তাকে ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে ছিলেন- বরুড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঝলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম; চিতড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া; ভাউকসার ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামান মাসুদ; শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ; লক্ষিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাসেম মিয়া; আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিঠু; পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহিন; আড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান বাদল মিয়া; আদ্রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রাকিবুল হাসান লিমন; ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান; খোসবাশ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান; খোশবাস দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব এবং গালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা।
তারা সবাই কুমিল্লা ৮ আসনের সাবেক এমপি ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন শামীমের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরা সবাই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান । এদের অত্যাচারে গত ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারে নাই । যেসব নেতা অতীতে বিএনপির কর্মীদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত- তারাই প্রকাশ্যে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং আত্মগোপনে যাওয়া আওয়ামী লীগ নতুন রূপে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আর তাদেরকে সহযোগিতা করছে বিএনপির কিছু নেতা।
আব্দুল হাকিম নামে বিএনপির এক কর্মী বলেন, এরা গত ১৭ বছর নির্যাতন চালিয়েছে । এখন এদের হাত থেকেই আবার ফুল নিচ্ছেন মন্ত্রী । হালুয়া রুটির বাগ বাটোয়ারা সবাই মিলেমিশে খায়। শেষমেষ আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের অবস্থা হয় ধানক্ষেতে অথবা গাছ তলায় মশারি টানিয়ে শুয়ে রাত কাটানোর জন্য।
মঞ্জুরুল ইসলাম নামে বিএনপির এক নেতা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ভাবতেই অবাক লাগছে- যারা গত ১৭ বছর বিএনপির ওপর অত্যাচার-অবিচার করছে; তাদের হাত থেকেই কিভাবে ফুল নিলেন মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন ভাই ।
ওমর ফারুক রিপন নামে একজন মন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, রাজনীতি এমনই! কাছের মানুষ পর হয়ে যায়; আর পর মানুষ আপন হয়। এ বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি ।