হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কুমিল্লায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা

এম হাসান, কুমিল্লা

কুমিল্লায় সক্রিয় হয়ে উঠছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নতুন সরকার গঠনের পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন দলটির পলাতক নেতাকর্মীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ডজনখানেক হত্যা মামলা থাকা পরও নগরীতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

গত তিন মাসে দেশে এসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বেশ কয়েকজন নেতা। তারা হলেন—কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সাবেক এমপি বাহারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শহীদ, বাহারের ভাতিজা জেলা সদরে ১১ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র হাবিবুর আলামিন সাদী, মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ। আরো আছেন—১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের মনি, আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী বাসার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান সবুজ, ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন ছোটন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল হোসেনসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। গত দুই মাসেই তারা ভারত থেকে কুমিল্লায় এসে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়সংলগ্ন ধর্মসাগরপাড়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন এবং বুড়িচংয় উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনসহ মহানগরীর কয়েকজন নেতাকর্মী বৈঠক করেন। এর কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ।

ওই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কালিকাপুর আব্দুল মতিন খসরু কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম । তিনি জানান, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হক আঁখি আমাদের দাওয়াত করেন। এজন্য ওনার সঙ্গে নাস্তা করি ।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হক আঁখি বলেন, আমি নাস্তা করছিলাম । এমন সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন এসে আমার টেবিলে বসেন। আমি তাদের বলি, তোমাদের নামে মামলা আছে। তোমরা কীভাবে ঘোরাফেরা করো, পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

অভিযোগ উঠেছে, কুমিল্লা মহানগর, নাঙ্গলকোট, সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দাউদকান্দি এলাকায় গত এক সপ্তাহে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ মিছিল এবং কয়েকবার সাংগঠনিক বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বিএনপির কিছু নেতার মদত আছে বলে অভিযোগ করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

গত সোমবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি এবং নাঙ্গলকোটে ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ । গত এক সপ্তাহ ধরে মিছিল-মিটিং করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কুমিল্লার পুলিশ।

বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য তদবির করে থাকেন বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী। তাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামিদেরও জামিনের জন্য সুপারিশ করছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ।

কুমিল্লা কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিঙ্কু এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন আনছেন। কুমিল্লা থেকে কোনো জামিন পাচ্ছেন না ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় ৪২টি মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেউ দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন আবার কেউ দেশে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন সীমান্ত দিয়ে। গত ঈদুল ফিতরের আগে পর অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দেশে প্রবেশ করেছেন ।

ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ কবির বলেন, গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু সদস্য ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় মিছিল করেছে। খবর পেয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে অংশ নেওয়া অনেকের মুখে মাস্ক থাকায় পরিচয় শনাক্তে কিছুটা সময় লাগছে।‌ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করব ।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক এবং কুমিল্লা জেলার প্রধান সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ বলেন, আগেও একটি অভিযোগ ছিল—তৃণমূলে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে একটি গোপন সম্পর্ক আছে। নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য বিএনপি যোগসাজশ করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই ।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। যতদিন পর্যন্ত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হবে, ততদিন দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিএনপির প্রতি আহ্বান জানাব, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন তারা পরিহার করে ।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু আমার দেশকে বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কুমিল্লায় কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। কারণ, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কুমিল্লায় কোনো অরাজকতা করার পাঁয়তারা করলে শক্ত হাতে দমন করা হবে ।

বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোস্তাক মিয়া আমার দেশকে জানান, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার গত ১৭ বছর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। অত্যাচার, লুটপাটের রাজনীতি করেছে। গণতন্ত্রকে তারা গলাটিপে হত্যা করেছে। স্বৈরাচারের দোসরদের নেত্রী হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাদের রেখে যাওয়া দোসররা বিভিন্ন ছত্রছায়ায় আছেন। এরা সুযোগ পেলেই চেষ্টা করবে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা করার। এজন্য পুলিশ প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুল বারী বলেন, মহাসড়কে কারা মিছিল করেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ।

পুলিশের নীরবতায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে আসামিদের ধরা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন স্বপন সম্প্রতি কয়েকটি সভা করেছেন, আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করছি ।

নবীনগরে সড়কের কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন

কুতুবদিয়ায় বিসিকের লবণ মাঠ এখন গোচারণ ভূমি

ঘুমের ঘোরেই শিশুটিকে নিয়ে যায় গোডাউনের অন্ধকারে

ক্লাসে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল হাসান, ফিরল লাশ হয়ে

বিচারপ্রার্থী বৃদ্ধ বাবার আদালতে হাজিরা শেষই হচ্ছে না

শিশু ধর্ষণ: ক্ষোভে ফুঁসছে চট্টগ্রাম, আজ আদালতে তোলা হবে অভিযুক্তকে

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও বাড়ল খোলা লবণের দাম

উজিরপুরের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান সাইফুল গ্রেপ্তার

তিনদিন ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকা বোটের ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার

ইসলামী ব্যাংকের ৮৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ অনাদায়ে সাজা