ছোট ভাই গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিককে (৬৬) হত্যার ঘটনায় ছোট ভাই হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। এর আগে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী শহরের শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হারুনুর রশিদ (৫৫) উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা গ্রামের ছেলামত উল্যাহ বাড়ির মৃত ছেলামত উল্যার ছেলে। তিনি নিহত আবু বকর ছিদ্দিকের আপন ছোট ভাই।
র্যাব জানায়, ভিকটিম আবু বকর ছিদ্দিকের সাথে হারুনুর রশিদের আগে থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে বসতবাড়ির সামনে জমিতে হালচাষ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ ধারালো ছেনি দিয়ে আবু বকর ছিদ্দিকের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য আসামিরা তাকে লাথি ও কিলঘুষি মারেন। তাৎক্ষণিক স্বজনেরা তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবু বকর ছিদ্দিক মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত দুপুর ২টার সময় আমার দেশকে জানান, মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকলে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুজ্জামান সোমবার দুপুর সোয়া ২টার সময় জানান, আটক আসামিকে র্যাব-১১ বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে। আসামি হারুনুর রশিদকে কোর্টে পাঠানের প্রক্রিয়া চলছে।