ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী । যানজট না থাকায় মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘদিন পর দেখা গেলো স্বস্তির চিত্র। গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে নেই কোনো যানজট বা দীর্ঘ ভোগান্তি।
স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পৌঁছাতে পারছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।
এছাড়াও কুমিল্লার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে সেনাবাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যরা। তাদের সমন্বিত তৎপরতায় মহাসড়কের এই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মহাসড়কে চুরি, ছিনতাই রোধেও ভূমিকা রাখছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার ব্যস্ত মোড় ও সংযোগ সড়কগুলোতেও দেখা গেছে স্বাভাবিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচড়, কোটবাড়ি ও পদুয়ার বাজার এলাকায় যেখানে সবসময় যানজট লেগেই থাকতো সেই সব স্থানে যানজট নেই। যাত্রাপথে কমেছে ভোগান্তি।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লা অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে বলে জানান যাত্রীরা।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সুজন। তিনি জানান ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটেই ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লায় পৌঁছেছি। মহাসড়কে যানজট নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখেছি। এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন রোভার স্কাউটের সদস্য সাজিদুর রহমান জ্যামস তিনি বলেন, গতকালের তুলনায় আজকে মহাসড়কে যানজটের চাপ কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তবে দুপুরের পর চাপ বেশি থাকে। স্থানীয় মাইক্রোবাস এবং বাস চালকরাই মহাসড়কে প্রতিটি বাজারে যানজট সৃষ্টি করছে।
এছাড়া মহাসড়কে বড় ধরনের কোন যানজটের চিত্র আমরা দেখিনি।
কুমিল্লা দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, দাউদকান্দি এলাকায় গত দুইদিন ধরে গাড়ির চাপ প্রচণ্ড ছিল। তবে কোন যানজটের সৃষ্টি হয়নি। আশা করছি এবার ঈদে মহাসড়কে কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে মানুষ।
হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম দৈনিক আমাদের দেশকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে টেকনা পর্যন্ত ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে কাজ করছে নয় শতাধিক পুলিশ সদস্য।
এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো যানজট হয়নি। ২৪ ঘন্টা পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান করছে।