পরশুরামের স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপহারের ছাগল পেয়ে জীবনে প্রথম কোরবানি দিচ্ছেন মোকছেদ মিয়া (৬৫)। বাপ-দাদা কেউ কখনো কোরবানি দেয়নি, নিজেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোরবানি দিতে পারবেন, সেটি কখনো ভাবেননি। কোরবানিতে অংশ নেবেন সেই খুশিতে আত্মহারা মোকসেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দিন ভুঁইয়া জুয়েল মোকছেদ মিয়াকে একটি ছাগল ও তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তেল-মসলা কিনে দেন।
উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামে একজন দরিদ্র মানুষ মোকছেদ মিয়া। শরীরে যখন শক্তি ছিল, দিনমজুরের কাজ করে সংসারের ভরণ পোষণ চালাতেন। গত কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতায় কাজকর্ম করতে পারেন না। চার মেয়ের মধ্যে তিন মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ, একজন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।
জানা গেছে, কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে পাওয়া মাংস রান্নার জন্য মোকছেদ মিয়ার কাছে তেল-মসলা কেনার টাকা ছিল না। কিছু টাকার জন্য একই গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দিন ভূঁইয়া জুয়েলের কাছে যান অসহায় মোকসেদ। জুয়েল তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন মোকছেদ কখনো কোরবানি দেননি। আরও দুজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে জুয়েল বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। তারাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন মোকছেদ মিয়াকে একটি ছাগল উপহার দেবেন। পার্শ্ববর্তী ধনীকুণ্ডা পশুর হাট থেকে একটি ছাগল ও তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় মসলা কিনে মোকছেদ মিয়ার বাড়িতে পৌঁছে দেন জুয়েল।
মোকছেদ মিয়া বলেন, আমি কখনো কোরবানি করিনি, আমার বাবা ও দাদা কেউ করেছে বলেও আমার মনে পড়ে না। প্রথমবারের মতো এবার কোরবানি দেব। ছাগলটি কিনে দেওয়ায় আমিও আমার পরিবার অনেক খুশি। জুয়েল ও যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের জন্য আমি দোয়া করি।
নুর উদ্দিন ভূঁইয়া জুয়েল জানান, তেল-মসলা কেনার জন্য আমার কাছে গেলে আমি জানতে পারি তিনি কখনো কুরবানি দেননি। আমার দুজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে আলোচনা করে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি ছাগল ও মসলাপাতি কিনে তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছি।