পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে শুধু একটিই গুঞ্জন পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বান্দরবান ৩০০ নং আসনে আবারো জয়ের স্বাদ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবং রাজপরিবারের গর্বিত সদস্য সাচিং প্রু জেরী। নির্বাচনি প্রচারের শুরু থেকেই যেখানেই তিনি পা রেখেছেন, সেখানেই উপচে পড়া ভিড় আর সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রমাণ করছে আজকের নির্বাচনে ধানের শীষের পাল্লাই ভারী।
সাচিং প্রু জেরী কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বান্দরবানের মানুষের কাছে তিনি এক জননন্দিত নাম। তার সততা, মার্জিত ব্যবহার এবং রাজপরিবারের ঐতিহ্য তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। সাধারণ ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে। বয়সের এই পরিণত সময়ে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের মানুষ তাদের এই প্রিয় নেতাকে আবারো সংসদের আসনে দেখতে মুখিয়ে আছেন।
তার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলকে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বান্দরবান থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা চার বছর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি ২০০৭ সালের ১/১১-পরবর্তী কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন আহ্বায়ক হিসেবে। ২০০৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করেন।
নির্বাচনি প্রচারণার ময়দানে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাচিং প্রু জেরীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগী রাজনীতি এবার তাকে বড় ব্যবধানে জয়ী করতে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এলাকার উন্নয়ন এবং শান্তির স্বার্থে অভিজ্ঞ ও ভদ্র এই জননেতার কোনো বিকল্প নেই। আগামীকালের সূর্যোদয় কি বান্দরবানের পাহাড়গুলোতে ধানের শীষের বিজয়গাথা বয়ে আনবে? উত্তর পেতে প্রহর গুনছে পুরো পার্বত্য জেলা।