চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা’ নামে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠনের ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সেখানকার বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে পুরো উপজেলায় চলছে উৎসবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দমিছিল করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বড় উপজেলা হওয়ায় সরকারি অনুদান ও উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছিল পুরো ফটিকছড়ির মানুষ। এই বাস্তবতায় দুটি উপজেলা ঘোষণার বিষয়টি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ফটিকছড়িবাসীর।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় দেশে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ফটিকছড়ি উত্তর ছাড়া অন্য দুটি উপজেলা হলো—মুরাদনগরের বাঙ্গারা ও গফরগাঁওয়ের আদর্শনগর।
জানা যায়, বর্তমানে দুটি থানা, দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত প্রায় ৭ লাখ জনসংখ্যার ফটিকছড়ির বিশাল অঞ্চল একক প্রশাসনিক কাঠামোয় দেখভাল করা বেশ কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা যুগ যুগ ধরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষা তথা মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলে শিক্ষার হারও কম। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অসুবিধা দূরীকরণ ও স্থানীয়দের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনসেবার মান বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেয় সরকার।
এদিকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করায় ফটিকছড়ির উত্তর উপজেলার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বুধবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আবারও কেউ কেউ হাটে-বাজারে নতুন উপজেলা গঠনের সুফল নিয়েও আলোচনা করেছেন। আবার কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ ও একজন আরেকজনকে মিষ্টিমুখ করানো ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
তারা বলছেন, উপজেলা গঠনের দাবিটি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় নাগরিক সেবা এখন থেকে আরও সহজ হবে। বাড়বে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণের বরাদ্দ। সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও এগিয়ে যাবে এলাকাটি। বিশেষ করে উত্তর ফটিকছড়িতে নতুন সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আশা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এমএইচ