ঈদের দ্বিতীয় দিনের ছুটিতে চট্টগ্রামের পর্যটনকেন্দ্র ও পার্কগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লেগেছে। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন শতে শতে দর্শনার্থী বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে সমবেত হয়েছে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও সন্তানদের নিয়ে অবসর সময় কাটাতে দূরদূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। এতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা ও হিমশিম খাচ্ছেন। কেবল চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাতেই স্বাভাবিকের তুলনায়দশ গুণ দর্শনার্থী টিকিট কেটে প্রবেশ করেছে৷ এখন হিসাব পাওয়া গেছে নগরের অন্যান্য পার্ক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও।
সরেজমিনে নগরের আগ্রাবাদস্থ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ পুরো পার্ক। পার্কের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অর্ধ শতাধিক রাইডে আনন্দে মেতেছেন শিশু-কিশোররা। মা-বাবারা সন্তানদের আনন্দ দিয়েই হাসিতে মেতে ওঠেছেন। কোথাও চুকচুক ট্রেন, বাম্পার কার, জাম্পিং, থ্রিডি মুভি, শাপলি চেয়ার মুভিং, উড়ন্ত হেলিকপ্টার, বোট রাইড, নাগরদোলা, দোলনা, রোলার কোস্টারসহ বিভিন্ন ধরণের রাইডে চড়তে শিশুদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়াও পার্কের রেস্টুরেন্ট ও ফুড কোর্টগুলোতেও ফুসকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ নানারকম মুখরোচক খাবারে মেতেছে ছেলে-মেয়েরা৷
সেখানে কর্মরতরা জানান, দর্শনার্থীদের কয়েকগুণ বেশি চাপ থাকায় তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের রাইডগুলো পরিচালনায় অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়েছে৷ সবচেয়ে বেশি ভিড় জনপ্রিয় রাইডগুলোতে৷
অপরদিকে নগরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ফয়'জ লেক ও সী ওয়ার্ল্ডেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লেগে আছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে নানারকম বিনোদনে সময় কাটাচ্ছেন শতশত মানুষ৷ কেউ বোট রাইড করছেন, কেউ ক্লাম্বিং করছেন৷ আবার কেউ পানির ঢেউয়ে গা ভিজিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়ও হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন৷ এছাড়াও নগরের পতেঙ্গা সি বিচ, আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক, পারকি সি বিচ, কর্ণফুলি শাহ আমানত সেতু, সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়িয়া, আকিলপুর সমুদ্র সৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড়, মহামায়া লেক, মুহুরি প্রজেক্ট, আরশিনগর ফিউচার পার্ক, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, নগরের জুলাই স্মৃতি পার্ক, সিআরবি, নৌ মিউজিয়াম, কাট্টলী সি বিচ, কল্পলোক আবাসিক সংলগ্ন বিচসহ আশেপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের তীব্র চাপ রয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ আমার দেশকে জানান, রোববার ১৮ হাজার দর্শনার্থী টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছেন। এতে তারাও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন৷ কোন প্রাণীকে যেন কেউ বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে কর্মীদের। এছাড়াও প্রাণীদের আচরণ বুঝতে অনেকেরই সমস্যা হয়৷ সার্বিক বিষয় খেয়াল রাখতে তাদেরকে কঠিন নজরদারিতে রাখতে হচ্ছে পুরো চিড়িয়াখানা।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী আয়শা আক্তার জানান, ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি ঠিকই কিন্তু সেবার মান সন্তোষজনক নয়। পার্কগুলোর ব্যবস্থাপনাও খারাপ৷ একটি রাইডে টিকেট কাটতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে৷ প্রতিটি রাইডের দাম বেশি হলেও রাইডে খুব স্বল্প সময়ের জন্য আনন্দ উপভোগ করতে দেয়া হচ্ছে।
মো. রাহাতুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে পার্কে ঘুরতে এসেছেন৷ ঈদের ছুটির সময়গুলো পরিবার নিয়ে কাটাতে আরও কয়েকদিন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার৷
মিরসরাইয়ের বাসিন্দা মো. খান দিদার জানান, সেখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় ৮-৯ গুণ বেশি দর্শনার্থী ভিড় করছে৷ এতে আশেপাশের বাজারগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।