নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণেরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে। তারা সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে সমুদ্র খাতে আরও এগিয়ে যেতে চায়।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ। আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন। যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন।
ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল, যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।
বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, আপনাদের স্বাস্থ্যসচেতন হতে হবে। দীর্ঘ সময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
এডি/জেডএম