কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারীবর্ষণের ফলে পৃথক তিনটি ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার রাতে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। সেখানে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪) নামে এক রোহিঙ্গার বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। পরে উদ্ধারকারীরা কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সি ছেলে মোহাম্মদ আনাসের লাশ উদ্ধার করেন।
এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
অন্যদিকে, বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে ঘটে তৃতীয় পাহাড় ধসের ঘটনা। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নামে আরো চারজন নিহত হয়। এই ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পৃথক তিনটি স্থান থেকে মোট আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সাথে ৮ এপিবিএনের সদস্যরাও যোগ দেন।
৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণের কারণেই এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি।’
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছিল।’
তিনি সবাইকে অতি দ্রুত প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান।