সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির নতুন কমিশনার
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হতাহত পরিবারের করা মামলাগুলোর ৮২-৯০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নতুন কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৫১ মামলার মধ্যে ৬৯টি হয় নগর ও জেলার ৯টি থানায়। বাকিগুলো আদালতে দায়ের হওয়া নালিশি মামলা (সিআর)। এসব মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫০। অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার।
আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম যেমন আছে, তেমনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও আছেন। চট্টগ্রামে থানায় হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট আসামি ২১ হাজার ৯০৬ জন। মামলাগুলোর মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা। তদন্ত শেষ হওয়া একটি মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
সিএমপি কমিশনার বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। তাদের ওপর কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে না। সেজন্য এসব মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা সময় লাগছে।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বিষয়ে নতুন কমিশনার বলেন, আগের কমিশনার ইন্টারপোলের মাধ্যমে রিকোয়েস্ট করেছেন। আমিও এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। এ নগরীকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হতে দেব না। রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলবে না।
এদিকে, জুলাই বিপ্লবের পর ২০ মাস পার হলেও চট্টগ্রামে হওয়া মামলাগুলোর তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাইয়ের ঘটনায় চট্টগ্রামে হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এগোচ্ছে না, হাজির করা যাচ্ছে না সাক্ষীদের।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত বিভিন্ন দপ্তর থেকে খোঁজ নেওয়া হতো। নতুন সরকার আসার পর সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনও করা হয়নি।