হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বন্যায় বাঁশখালীতে বিধ্বস্ত ৪০ হাজার মাটির ঘর

মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

বাঁশখালীর কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, কিছু এলাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ভয়াবহতার চিত্র, ভেঙে যাচ্ছে হাঁটুপানিতে ডুবে থাকা কাঁচা মাটির ঘরগুলো। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় বাঁশখালীতে অন্তত ৪০ হাজার মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। বীজতলা, আউশ ধান, পুকুর, মৎস্যচাষ ও বিভিন্ন সবজি ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কৃষকের লালিত স্বপ্ন ভেঙে গেছে। পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে সহস্রাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার চিত্র এটি।

উপজেলা কৃষি অফিসার শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় আড়াই হাজার পুকুর এবং ৩১০টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, চট্টগ্রামে এবার স্মরণকালের অন্যতম বড় বন্যা হয়েছে। অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনো বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ৯০ কোটিরও বেশি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। বাঁশখালীতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে পৌরসভার আশকরিয়াপাড়া, মহাজনপাড়া, রঙিয়াঘোনা ও বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা, রত্নপুর, চাপাছড়ী, ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালি, ছেলবন, জমিলাপাড়া, সাম্বলীপাড়া, তোতকখালী, এক নম্বরপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমে গেছে। গ্রামীণ সড়কগুলোতে বন্যার ভয়াবহতার ছাপ ভেসে উঠেছে। ছনুয়া, মধুখালি, ছেলবন, বাহারছড়া, কাথারিয়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, সরল খালাইচ্চ্যার দোকান, বড়ুয়ার টেক, বড়ঘোনা ও বৈলছড়ীতে এখনো কোমরপানি, কোথাও হাঁটুপানি স্থিতি রয়েছে। ওখানকার মানুষগুলো এখনো পানিবন্দি। পানিবন্দি বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকজন পাশের উঁচু ভবন অথবা দূরের আত্মীয়দের বাড়িতে চলে গেছে।

এদিকে বন্যার কারণে পুরো উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট চলছে। এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা করছেন অনেকেই। ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমীন ছানুবী বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হয়েছে আমার ছনুয়া ইউনিয়ন। এখানে এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। অনেকের উনুনে আগুন জ্বলছে না, পর্যাপ্ত ত্রাণ নেই। অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি বলেন, বন্যার্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সাহায্য সামান্য। পুরো ইউনিয়ন বন্যার পানিতে ডুবে আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, দুর্গত এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গ্রুপ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ কাছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার ব্যবস্থায় সোমবার পর্যন্ত ১০০ টন চাল ও পাঁচ হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

বরকলে ‎বন্যার পানি নেমেছে, রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন

কুমিল্লায় ৯৮৭ শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তর

লামায় ঠিকাদারের গাফিলতি, সড়ক ও ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ

শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নেমে গেছে পানি, ভেসে উঠেছে ক্ষতচিহ্ন

অন্যের বাড়ির সিঁড়িতে নবজাতক, এলাকায় চাঞ্চল্য

বৃষ্টি কম, জলাবদ্ধতার উন্নতি

লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন নাম ডেভিড ইমন

পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়