কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চৌব্বাস গ্রামে চার বছরের শিশুকে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই কিশোরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. জুনায়েদ এবং একই বাড়ির শাফিয়া খাতুনের ছেলে রিফাত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ১৫ এপ্রিল অভিযুক্তদের আসামি করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এ কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা ও বসতঘর ভাঙচুর করেছে আসামিরা।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা প্রবাসে থাকেন। গত ৮ এপ্রিল বিকালে মেয়ে বাড়ির উঠানে খেলা করছিল । এ সময় গোসল সেরে এসে মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর একটি বাচ্চা এসে বলে নাফিসাকে আমাদের বাড়ির জুনায়েদ ও রিফাত চকলেট দেওয়ার কথা বলে পাশের জমিতে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমি ও আমার শাশুড়ি মেয়েকে ডাকাডাকি করতে করতে বাড়ি পাশের ধানক্ষেত এবং ডোবার পাশে গেলে জুনায়েদ এবং রিফাত মেয়েকে পানিতে ফেলে দৌড়ে চলে যায়। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমরা গিয়ে মেয়ের শরীরে রক্তের দাগ ও বিভিন্ন জায়গায় আগাতের চিহ্ন দেখতে পাই।
এ সময় মেয়েকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ছয়দিন চিকিৎসা শেষে গত সোমবার তাকে বাড়িতে আনি।
তিনি আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করার কারণে কিছু লোক আমার বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমার শিশু বাচ্চার সঙ্গে অমানবিক এ নির্যাতনের দ্রুত বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে জুনায়েদ ও রিফাতের বাড়ি গেলে তাদের এবং তাদের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘর তালাবদ্ধ করে কোথায় গেছে, সে বিষয়ে আশপাশের লোকজন কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।