চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বর্তমানে প্লাবিত এলাকায় পানি কিছু নেমে গেছে। ফলে ভেসে উঠতে শুরু করেছে ক্ষতচিহ্ন। উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে।
জমে থাকা পানি নেমে যাওয়ায় রোববার সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থারত সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরে গিয়েছে। বাড়িঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় জিনিজপত্রের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
টানা কয়েক দিন কর্মহীন হয়ে পড়ায় রিকশাওয়ালা, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। ফলে অর্থকষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে পানিতে আটকে পড়া সাধারণ মানুষের।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, উপজেলা নয় ইউনিয়নের প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল এবং প্রায় শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ধসে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করেন।
তাছাড়া মৎস্য খাতে উপজেলার নয় ইউনিয়নে ১৬২০টি পুকুর, দিদি ও মাছের প্রজেক্টের ২৬২ হেক্টর মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আধুনগর, আমিরাবাদ, পদুয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩৪টি রাস্তা, ৭টি ব্রিজ কালভাট ও চাম্বি রাবার ড্রামসহ ৩২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতি সম্মুখীন হয়েছে। যার মোট আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ১৫ কোটি টাকার চেযে বেশি হতে পারে এবং কৃষিখাতেও ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২ দুই হাজার ৫০০টি পোলট্রি খামার, ১ হাজার ৫০০ টি গবাদি পশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতি ১৩ কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারি মন্জুর আলম বলেন, প্রবল পানির স্রোতে আমার মাছের প্রজেক্ট থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মাছ ভেসে গিয়েছে। এমনতাবস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি আমরা যারা মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তাদের পাশে না দাড়াঁয়; তাহলে পরবর্তী কেউ মাছ চাষ করতে আগ্রহ হবে বলে আমার মনে হয় না।
চুনতি ইউনিয়নের বাসিন্দা সফর বলেন, অতি বৃষ্টির পানিতে চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ও ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তার বাড়ি ভেঙে গেছে। হাতে টাকা নেই সংস্কারের জন্য। ফলে তিনি পানি নেমে গেলেও এখনো স্ত্রী ও তিন ছেলে তিনি অন্যের বাড়ির বারান্দায় দিন যাপন করছেন।
আধুনগরবাসী এলাকার আবুল কালাম জানান, কামাল সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এম মেয়ে। ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অতি বৃষ্টির প্রবল বর্ষণের পানিতে বাড়ি ভেঙে গেছে। বাড়ি ঠিক করতে পারছেন না বলে তিনি আছেন খোলা আকাশের নিচে।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০০ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি মেরামতে সাহায্য করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বন্যায় ৫ কিলোমিটার ইট বিছানাে ও পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য কৃষকদের পুনবার্সন করাসহ আর্থিক ও উপকরণগত প্রণোদনা দেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, উপজেলার সকল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে ইতিমধ্যে শুকনো খাবার বিতরণের পাশাপাশি নগদ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। পরবর্তী যাদের ঘর-বাড়ি ধসে পড়ে গিয়েছে তাদের বাসস্থানের জন্য চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করবেন।
এমএইচ