হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ঢাকার যুবলীগ নেতার কুমিল্লায় বিএনপি পরিচয়, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিজেকে খাঁটি বিএনপি দাবি করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সময়ের ঢাকায় যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা আখতারুজ্জামান রিপন। তার এই দাবিকে ঘিরে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার এই দাবি মানতে নারাজ এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার রিপন এলাকার বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ।

এছাড়া ২০২৪ সালের ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক চেয়েছেন তিনি। ব্যর্থ হয়ে পরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

রিপনের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু কুমিল্লার সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার তার জয় ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পরাজিত ঘোষণা করান এবং আব্দুল হাই বাবলুকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানানো হয়।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আখতারুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আমি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নই। আমি ব্যবসায়ী, ব্যবসা করার কারণে অতীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে চলাফেরা করেছি।’

ঢাকায় যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের সঙ্গে রাজনীতি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনার অফিসে আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজের জন্য যেতে হয়েছে। আমি যুবলীগের কমিটির রাজনীতি করি না। ১৯৯৪ সালে আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। গত ১৭ বছর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ২০১৩ সালে বিএনপির অফিস উদ্বোধন করেছিলাম সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নে ।‌

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি দলের নীতিমালা অনুযায়ী রাজনীতি পরিচালনা করি। দলের নীতি অনুযায়ী যারা পূর্বে দলের পদ পদবিতে থাকে এবং দলের হয়ে কাজ করেছেন, এমন কর্মীদের যখন দল যেকোনো জায়গায় মূল্যায়ন করে, আমি সেটা মেনে নিয়ে তার হয়ে কাজ করব। কিন্ত বিগত ১৭ বছরে যারা মিছিল মিটিংয়ে ছিলেন না, যাদের আন্দোলনের মাঠে পাওয়া যায়নি, বিপদের সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে ছিল, তারা যদি বিএনপির হয়ে মাঠে নামতে চায়- তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান।

আক্তারুজ্জামান রিপনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, দেশের যেকোনো মানুষেরই নির্বাচন কররা অধিকার আছে, কিন্ত দলের নাম ভাঙিয়ে যদি সে কোথাও কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আমরা সকলে একত্রিত হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব।

সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃণমূল বিএনপি কর্মী জাকারিয়া লতিফ বলেন, আক্তারুজ্জামান রিপন টাকার ওপর ভর করে রাজনৈতিক খেলা খেলতে আসছেন। এরা হলো হাইব্রিড নেতা, তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাদের মাঠে প্রতিরোধ করবে।

সব মিলিয়ে, নিজেকে খাঁটি বিএনপি দাবি করা আখতারুজ্জামান রিপনকে ঘিরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তার প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এখনো রয়েছে নানা প্রশ্ন এবং সময়ই বলে দেবে তিনি আসলে কোনো ধারার রাজনীতির মানুষ।

পুকুরে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলল মর্টার শেল

থানা প্রতিষ্ঠার ১০৮ বছরেও নেই লাশঘর

বাঁশখালীতে আ.লীগ নেতার জরিমানাসহ কারাদণ্ড

জামায়াত আমিরের যে বক্তব্যে ভুল বোঝেননি এমপি সাঈদ আল নোমান

মেঘনায় ওরশে বিরোধের জেরে সিএনজি অটো থামিয়ে যুবককে হত্যা

৬ কারণে কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছিল

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযানে পিস্তল-গুলিসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার

নোয়াখালীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কিশোর গ্যাং নেতা নিহত

গুইমারায় বজ্রপাতে নিহত ১

লামায় ৭ মিয়ানমার নাগরিক আটক