হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ইতালিতে এক পরিবারের তিনজন খুনের নেপথ্যে পরকীয়া

আজাদ ভূঁইয়া, নোয়াখালী

পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে ইতালির রাজধানী রোমে স্বামী-স্ত্রী, শিশুকন্যাসহ একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় রোমের পশ্চিমাঞ্চলের অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি পার্কসংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরিশা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে অয়ন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে মাতম। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আবদুল আহাদের ছেলে।

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ, দেশে থাকাকালীনই আরজুর সঙ্গে শাহাদাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

এ বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে কয়েক বছর আগে কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নিয়ে যান। অন্যদিকে প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিচ্ছেদের পর তিনি ইতালিতে চলে আসেন।

সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী আরজু এবং তাদের সন্তানদের উপস্থিতিতে শাহাদাতের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে কামাল উদ্দিন, আরজু ও তাদের মেয়ে আরিশা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অয়ন পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাত তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে, অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারোর জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না’।

শনিবার ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহাদাতের ছবি প্রকাশ করে তাকে ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে রোম পুলিশের মোবাইল ইউনিটকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।

শাহাদাতের বড় ভাই সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন বলেন, ‘চার বছর আগে শাহাদাত তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না।

আমি দুই মাস আগে দেশে এসেছি, এ সময়ের মধ্যেও তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগে তার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে কামালের পরিচিত ও একই গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত জড়িত।

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে পার্ক এলাকা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকীম বলেন, তৎকালীন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিল।

স্বর্ণের চেয়েও এখন বেশি লাভ সিগারেট চোরাচালানে

কর্ণফুলীতে লাইটার জাহাজডুবি, ১২ নাবিক উদ্ধার

ডামুড্যার হুমায়ুন পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় দ্বিতীয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহতের জেরে ফের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ২৫

জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক আটক

রামগঞ্জে রাস্তায় পড়ে ছিল বিদ্যুতের তার, প্রাণ গেল গৃহবধূর

অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার আমার দেশ প্রতিনিধি

চাঁদা না দেয়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

কোটি টাকার প্রকল্পে প্রশ্নের মুখে সীতাকুণ্ড প্রজনন খামার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাশ দাফনের পর ফের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ লুটপাট