ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা ও কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা-র এক কর্মী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
রোববার দুপুরে আহাদ নামে এক কর্মী সরাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন রুমিন ফারহানা।
অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় রুমিন ফারহানার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় পরবর্তীতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।