ভোটের ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনি উৎসব। প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন দিনভর। অন্যদিকে কেন্দ্র প্রস্তুতের শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন নির্বাচনি কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে, এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট এক হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত। এসব কেন্দ্রে এবার ভোট দেবেন ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ ভোটার। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতিতে সেনাবাহিনীও এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে মাঠে নামছে। সেনা টহল থাকবে নগর ও জেলার মূল সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পাহাড়ি পথ, শিল্পাঞ্চল এবং দুর্গম ইউনিয়নগুলোয়। ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ভোটের পরের ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ‘এরিয়া ডমিনেশন’ চালাবে—যার লক্ষ্য গুজব, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং কোনো সংগঠিত নাশকতার আশঙ্কা আগেভাগেই দমন করা। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোর আশপাশে বিশেষ টহল ও পর্যবেক্ষণ টিম মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও গুরুত্ব দিয়েছে। ড্রোনে আকাশ পর্যবেক্ষণ, মোবাইল সিগন্যাল ম্যাপিং, পাহাড়ি এলাকার চলাচল নজরদারিতে নাইট ভিশন টিম এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ায় ‘র্যাপিড মোবিলাইজেশন ইউনিট’ প্রস্তুত রয়েছে। কোনো কেন্দ্রে উত্তেজনা দেখা দিলে সেনা অফিসাররা সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করবেন। চট্টগ্রাম বন্দর ও ইপিজেড অঞ্চলে বিদ্যমান নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের দিন ভোটার, কর্মকর্তা এবং ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তায় ফাঁক না থাকে।
কেন্দ্র পরিদর্শন, জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, সড়ক নজরদারি—সবকিছুরই ওপর বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. জিয়াউদ্দীনের চোখ। প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা যেন এক সুতায় বাঁধা। লক্ষ্য একটাই—ভোটার নিরাপদে ভোট দেবেন।
শহর ও জেলার ১৬ আসন জুড়ে এখন একটাই ছবি—ব্যালট বাক্স, সিলপ্যাড, রেজিস্টার, প্রশিক্ষণ সামগ্রী নিয়ে ছুটছে নির্বাচন কর্মকর্তারা। ট্রাকে ট্রাকে সরঞ্জাম যাচ্ছে উপজেলা গুদামে। বহু কেন্দ্রেই নতুন রঙ, মেরামত আর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ। আর প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদের মতে, প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত এক প্লাটুন পুলিশ থাকছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে স্থায়ী র্যাব ক্যাম্প। মোবাইল টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, কুইক রেসপন্স—সবই সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।