কুমিল্লা-৭
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি লড়াই ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদের জন্য নির্বাচন জটিল হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর শক্ত উপস্থিতিতে বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেলেও শুরু থেকেই দলের ভেতরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কুমিল্লা উত্তর জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। তিনি মাঠে নামার পর ধানের শীষের ভোটে বড় ধরনের বিভাজনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই আসনে মূলত তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের সোলায়মান খান। জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটও সংগঠিতভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর কারণে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী চাপে রয়েছেন।
বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভের কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে তারা মনে করেন। রেদোয়ানের পক্ষে কাজ না করায় গত সপ্তাহে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে তৃণমূলের অসন্তোষ আরো বেড়ে যায়।
বিএনপি কর্মীরা অভিযোগ করেন, ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেদোয়ানের সঙ্গে আহমেদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। গত ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না । বিপরীতে মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময় চান্দিনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন আতিকুল আলম শাওন। এ কারণে বিএনপির একটি বড় অংশের ভোট বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে যেতে পারে বলে সাধারণ ভোটাররা ধারণা করছেন।
জানা গেছে, এই আসনে প্রথমে জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও পরে তাকে সরিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হয় খেলাফত মজলিসের সোলায়মান খানকে। তবে তৃণমূলে তার পরিচিতি তুলনামূলক কম হওয়ায় এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন।