হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বৃষ্টি কম, জলাবদ্ধতার উন্নতি

আমার দেশ ডেস্ক

বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার পানি সরে যাচ্ছে । এতে বন্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।ভেসে উঠছে বন্যায় ক্ষত । বন্যার্ত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাসাবাড়িতে ফিরে আসতে শুরু করেছে। চলছে ত্রাণ তৎপরতা। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা প্রায় এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর পানি নেমে যাওয়ার পর স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বান্দরবান। পানি সরে যেতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। কাদা, ভাঙাচোরা ঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন হাজারো মানুষ।

সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মানুষ। কিন্তু বাড়িতে ফিরে অনেকেই পেয়েছেন কেবল কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ। টানা কয়েকদিন পানির নিচে থাকায় বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। অন্যদিকে কয়েকদিন কর্মহীন থাকায় দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষের সামনে দেখা দিয়েছে চরম অর্থসংকট। ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি সংসার চালানোর চাপ তাদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের পর সুনামগঞ্জে আবহাওয়ার উন্নতি হয়েছে। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার কারণে জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমায় বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেমি. কমেছে এবং নদী থেকে হাওরের দিকে ঢলের পানি নেমে যাচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর মার্কুলি পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার নিচে নেমে আসতে শুরু করেছে।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, টানা ছয় দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ঢলের পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছিল। পানিবন্দি ও কর্মহীন হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রত্যাশীরা ঘরে ঘরে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে চলেছে।

এদিকে সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদীর পানি কমে যেতে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পানি নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে পানি নামছে ধীরগতিতে। এবারের বন্যায় কোথাও বাড়িঘর ধসে পড়েছে।

দক্ষিণ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কের কিছু স্থানে এখনো পানি থাকলেও যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি। হাজারো পরিবার এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। অনেক গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কিংবা কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গতকাল মঙ্গলবার ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । লাগাতার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবার বাসস্থান হারিয়ে দিশাহারা হয়েছে পরেছে। ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটির রাজস্থলীতে টানা বর্ষণ এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় ৪৩২ হেক্টর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন রাজস্থলীর তৃণমূল পর্যায়ের কৃষক এবং জুমচাষিরা।

উপজেলার কাপ্তাই খাল তীরবর্তী জমি, চর, সমতল এবং পাহাড়ের জুম চাষ করে এখানকার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু শুক্রবার মধ্যরাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে তলিয়ে গিয়ে নিচু এবং খালের তীরবর্তী অধিকাংশ জমি তলিয়ে যায়। এছাড়াও উপজেলার অনেক পাহাড়ে পাহাড়ধস হওয়ায় জুমের চাষ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, অবিরাম ভারী বর্ষণ, সাগরের উত্তাল জোয়ার নিষ্কাশনহীন জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায়, আউশ ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকদের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

বরকলে ‎বন্যার পানি নেমেছে, রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন

কুমিল্লায় ৯৮৭ শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তর

লামায় ঠিকাদারের গাফিলতি, সড়ক ও ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ

শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নেমে গেছে পানি, ভেসে উঠেছে ক্ষতচিহ্ন

বন্যায় বাঁশখালীতে বিধ্বস্ত ৪০ হাজার মাটির ঘর

অন্যের বাড়ির সিঁড়িতে নবজাতক, এলাকায় চাঞ্চল্য

লালমাইয়ে বিধবার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন নাম ডেভিড ইমন

পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়