হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না ফয়েজের

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাচার ঘরে দাদি মমিনা খাতুনের পাশে ঘুমিয়ে ছিল ছোট্ট ফয়েজ। আর মাত্র এক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাবা-মায়ের বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিকেলেই। ছেলের জন্য নতুন পোশাকও কিনেছিলেন তারা। কিন্তু ঈদের আনন্দ ঘিরে থাকা সেই পরিবারের ঘরে ভোররাতে নেমে আসে ভয়াবহ শোক। প্রবল ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় শিশু ফয়েজের।

মঙ্গলবার ভোররাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়েজ টরকীকান্দা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে ও ৮২ নং গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে প্রবল ঝড় ও ধমকা হাওয়ার সময় ফয়েজ দাদি মমিনা খাতুনের সঙ্গে চাচার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশু ফয়েজ। ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে বেঁচে যান দাদি মমিনা খাতুন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজের বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালান। মা-বাবা সেখানে বসবাস করলেও সন্তানের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাদির কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে ছেলেকে নিয়ে আনন্দ করার স্বপ্ন ছিল বাবা-মায়ের। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ছেলের মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায় তাদের কাছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টরকীকান্দা গ্রাম। প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ফয়েজ সবার প্রিয় ছিল। তার অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছে না কেউই।

নিহতের দাদি মমিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাতে আমার পাশে ঘুমাইছিল আমার নাতি ফয়েজ। ভোরে ফজরের আজান আর তুফানের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। আমি ওরে উঠতে বলছিলাম। তখন সে কইছিল, আমি একটু পরে উঠতেছি। এরপর আমি দরজা খুলে বাইরের দিকে তাকাইতেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বড় গাছ ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। গাছটা সরাসরি আমার নাতির গায়ের ওপর পড়ে। আমার চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার নাতিডারে আর বাঁচাইতে পারলাম না।’

বাবা আবু তাহের বলেন, ‘ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছিলাম। বিকেলে বাড়ি আসার কথা ছিল। আল্লাহ আমার সব শেষ কইরা দিল।’

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। যতটুকু জেনেছি, পরিবারটি অসহায়। সরকারিভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।

এএস

জীবনে প্রথম কোরবানি দিতে পেরে খুশিতে আত্মহারা মোকসেদ মিয়া

মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২৯ মামলার আসামিসহ আটক ৩

থেমে গেল ‎বাড়ি ফেরা, কালবৈশাখীতে প্রাণ‎ হারালেন হোসেন

অসহায়দের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা বিতরণ জামায়াতের নারী এমপির

কোরবানির হাটে ভারতীয় পশু চোখে পড়েনি: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

হাজীগঞ্জে নানির সঙ্গে রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাকচাপায় শিশুর মৃত্যু

ঈদযাত্রায় বাঁশবাড়িয়া ঘাটে ঘরমুখী মানুষের ঢল

হাতিয়ায় ১ লাখ পরিবার পেল ভিজিএফের চাল

পেকুয়ায় বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

ফেনীতে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি, চলছে ধুম বেচাকেনা