ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার হঠাৎ গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে ইউএনও ফেরদৌস আরাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফেরদৌস আরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও নীতিমান প্রশাসক। বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। কর্মক্ষেত্রে সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। মাত্র কয়েকদিন আগে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি, তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
তার আকস্মিক প্রয়াণে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে তাকে একজন আন্তরিক ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করছেন।
ফেরদৌস আরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। তিনি একজন শিক্ষক স্বামীর স্ত্রী এবং এক কন্যা সন্তানের জননী।
তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা জানানো হয়েছে এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।