পূর্বশত্রুতার জেরে মিথ্যা মামলা ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক এবং 'আমার দেশ' পত্রিকার হোমনা প্রতিনিধি দিদার আহম্মেদ। হয়রানিমূলক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত ২৩ জুন পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
পরে আদালতে পাঠনো হয়। এ ঘটনায় একজন সাংবাদিক হিসেবে তার মানহানি হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী এই সাংবাদিক নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে প্রশাসনের কাছে একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে হোমনা পৌর সুপার মার্কেটে এই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিক দিদার আহম্মেদ জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসের কোনো এক দিন বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় জনতা আবু বকর সিদ্দিকের ওপর চড়াও হয়, যা পরবর্তীকালে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি প্রচার হওয়ার বিষয়ে তাকে দোষ দিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হোমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাটি কেবল ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমেই জানতে পারেন। কিন্তু আবু বকর ওই ঘটনার অপপ্রচারের মিথ্যা অভিযোগে গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালতে তার (দিদার) বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ।
ভুক্তভোগী আরও জানান, সাধারণ ডায়েরি করাকে কেন্দ্র করেই গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি চক্র বাতাকান্দি বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তৎপর হয়ে মিরেরসরাই উপজেলার বিএসআরএম রড ফ্যাক্টরির নিকট থেকে তাকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীকালে এই ঘটনায় আবু বকরের সঙ্গে আপস-মীমাংসার আশ্বাস পাওয়ায় তিনি মামলা দায়ের করেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে আবু বকর আদালতে দায়ের করা তার ওই মামলাটি প্রত্যাহার না করায় গ্রোপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, হয়রনিমূলক মামলা ও তাকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ায় সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছেন সাংবাদিক দিদার আহম্মেদ।
পরিশেষে, প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, পুরো বিষয়টি যেন সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয় এবং এই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে তাকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত আবু বকর বলেন, ‘সে আমার কাছে চাঁদা চাইছে। চাঁদা দাবির বিরুদ্ধে আমি কোর্টে গেছি, মামলা করেছি। সেই মামলায় সে হাজির হয় নাই, তার বিরুদ্ধে কোর্ট থেকে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। পুলিশ তাকে এরেস্ট করেছে। সে জামিনে এসেছে। এখন আমরা আইনি মোকাবেলা করব ।’
সাংবাদিককে হাতকড়া পরানোর বিষয়ে হোমনা থানার এএসআই সুজন কুমার দে বলেন, ‘তিনি (দিদার আহম্মেদ) যে সাংবাদিক তা জানতাম না। তবে তিনি অনেক ভালো। থানায় নেওয়ার পর তাকে অনেক সম্মান করেছি। এ জন্য (হাতকড়া পরানোয়) ওসি স্যারও আমাকে অনেক কথা বলেছেন।’
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি টমাস বড়ুয়া বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এমএইচ