ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুম (২৮) নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে রাবার ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের (৩০) উপর দফায় দফায় নৃশংস হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে লামা রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন, হামলার শিকার রাবার ব্যবসায়ী ওমর ফারুকের বাবা আব্দুস সবুর বাবুল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আজিজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা মো. খলিল প্রকাশ ফরেস্টার খলিলের ছেলে মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুমরা নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবী করে আসছিল। গত ৫-৬ মাস আগে তাদের চাপে পড়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদাও প্রদান করি। এতে তারা সন্তুষ্ট না হয়ে উল্টো আমি ও আমার ছেলে ওমর ফারুকের কাছে আরো ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে আমার রাবার বাগানের সব গাছ কেটে তছনছ করে দিবে, কোনো অবস্থাতে আমাকে ও আমার ছেলেকে রাবার ব্যবসা করতে দিবেনা, কাঁচা রাবার ও রাবার শিট লুট করে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিবে বলে হুমকি দেন। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে গত ১৪ এপ্রিল দিনগত রাতে দেড় লাখ টাকার রাবার শিট নিয়ে যায় তারা। পরদিন সন্ধা ৬টার দিকে সোলেমান বাজারে আমার ছেলে ওমর ফারুকের সাথে দেখা হলে মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুম বলেন, ‘তুই এবং তোর বাপ আমাদেরকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তোদের কোনো জিনিস রক্ষা করতে পারবিনা, আমরা সবকিছু লুট করে নিয়ে যাবো’। শুধু তায় নয়, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুই এবং তোর বাপ আমাদেরকে চাঁদা না দিলে এখানে ব্যবসা-বানিজ্য করতে পারবিনা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঁদা না দেওয়ায় মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুমের নেতৃত্বে কোরবান আলী প্রকাশ রাজা মিয়া (২৪), মনির হোসেন মজনু (৩৫), মো. লিটন (৩০) ও রফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজনগর বাজারের তিন পথের মাথাস্থ বদনের কম্পিউটার দোকানের সামনে আমার ছেলে ওমর ফারুকের উপর হামলা করে। আমার ছেলে ওমর ফারুক মোটর সাইকেল যোগে রাবার বাগানের কর্মচারী জাকির হোসেন (২৬) ও আরিফকে (২২) নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তারা হকস্টিক ও লোহার রড নিয়ে হামলা করেন। এতে আমার ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে বলে যে, ‘ঘটনার বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি কিংবা মামলা মোকদ্দমা করলে তোদেরকে হত্যা করে লাশগুম করে ফেলবো’।
তিনি বলেন, আমার ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ওমর ফারুক এখন চট্ট্গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি ও আমার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার ওমর ফারুকের মা ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন অভিযুক্ত মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুম।
এমএস