সংবাদ সম্মেলনে দাবি
জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ১৪টি বছর কাটিয়েছেন হাজার মাইল দূরের দক্ষিণ আফ্রিকায়। পরিবারকে সুখী করার স্বপ্নে দিন-রাত পরিশ্রম করে একেকটি টাকা উপার্জন করেছেন। কিন্তু সেই কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাইতে গিয়ে নিজ পরিবারেই অবহেলিত তিনি। দুই চোখে স্বপ্নের বদলে এখন শুধুই হতাশা, বুকভরা কষ্ট আর ন্যায়বিচারের আকুতি।
বলছিলাম ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের মৃত খায়েজ আহমদ মিয়ার ছোট ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকাফেরত আবুল মনছুর আহাদের কথা। বড় ভাইয়ের প্রতারণা শিকার হয়ে সব হারিয়ে এখন তিনি অসুস্থ, নিঃস্ব ও অসহায়। বিচার চেয়ে ঘুরছেন আদালত এবং আত্মীয়স্বজনদের দ্বারে দ্বারে।
বুধবার ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমনই হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী আবুল মনছুর আহাদ।
এ সময় তিনি দাবি করেন, তার মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে তার পাঠানো ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আবুল মনছুর আহাদ জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে তিনি জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। ভাইয়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকেই তিনি একের পর এক ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান।
ভাই তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন—তার জন্য ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য হাইস গাড়ি কিনে দেবেন। সেই বিশ্বাসেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ভাইয়ের হাতে তুলে দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ফিরে দেখেন বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুললেও তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা টাকার হিসাব দিচ্ছেন না। বরং বারবার হিসাব চাইতে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।
আবুল মনছুর আহাদ জানান, বড় ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এন এ কনস্ট্রাকশনের হিসাব নম্বরে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা তিনি দেশে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে দেশে ফেরার আগে বড় ভাই হাতে লেখা টাকার একটি হিসাবের চিরকুট মেজো ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে দিয়ে আসেন। কিন্তু দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেওয়া হয়নি। উল্টো হিসাব চাইতে গেলে তাকে বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে বহুবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি অর্থহীন, অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে আজ তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রবাসে জীবনের সোনালি সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।’
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিের দাবি জানান।
এমএইচ