চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও হামজা মাহবুবের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে ফেনীর বহিষ্কৃত সহ-সমন্বয়ক ওমর ফারুক শুভকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওমর ফারুক শুভ ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের জগতজীবনপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকায় ফেনী জেলার সহ-সমন্বয়ক পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে আসছিলেন ওমর ফারুক।
সম্প্রতি বহিষ্কৃত ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে বহাল রাখার আশ্বাস দিয়ে ওমর ফারুক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
তাদের একটি কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। সেখানে ওমর ফারুক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও হামজা মাহবুবের কথা বলে মাহমুদুল হাসানের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঢাবির ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান রিজভীর নাম বলা হয়। মঙ্গলবার রাতে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন রিজভীর বাবা ছিদ্দিকুর রহমান। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, তথ্য উপদেষ্টা ও আমার নাম ভাঙিয়ে শুভ চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করেছে। তার এমন কাণ্ড আমার জন্য সম্মানহানিকর। এ জন্য আমি ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করেছি।
ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ড সুপার এডিট করা দাবি করে ওমর ফারুক শুভ বলেন, এটি সুপার এডিট করা। আমার কণ্ঠ না। কাজের মাধ্যমে আমি ফেনীতে জনপ্রিয়। আমাকে হেয় করতে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।
ফেনীতে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে আমাদের কমিটি নেই জানিয়ে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হামজা মাহবুব বলেন, শুভর বিষয়টি জেনেছি। তারা সমন্বয়ক হিসেবেই এখনো কাজ করছেন। কমিটি না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, মামলার পর তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।