জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি সভাপতিসহ ছয়জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী শহরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান জানান, পাংশা উপজেলার এক ভোক্তার অভিযোগের শুনানির জন্য পাংশার এক টাইলস বিক্রেতা ও
ক্রেতাকে (ভোক্তা) রাজবাড়ী অফিসে ডাকা হয়। ক্রেতা একা এলেও টাইলস বিক্রেতার সাথে বেশ কিছু লোক আসে।
শুনানি চলাকালে এক পর্যায়ে অভিযোগকারীকে মারধর শুরু করলে তিনি বাধা দেন। অভিযুক্তরা ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তার উপরও চড়াও হয়। হট্টগোলের খবর পেয়ে নিচে থাকা মাদকদ্রব্য অফিসের কর্মচারীরা এসে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে হামলাকারীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে যৌথবাহিনীকে সংবাদ দিলে তারা ছয়জনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান বাদি হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০/১২জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
আটকরা হলেন,পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা নারায়নপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের পুত্র রুহুল আমিন, একই এলাকার বদর উদ্দিনের পুত্র বাচ্চু বিশ্বাস, রাজবাড়ী পেরৗ এলাকার রওশন আলী শিকদারের পুত্র মামুন শিকদার, আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র ফরিদ হোসেন ও রেজাউল করিম পিন্টুর পুত্র শিশির করিম। তাদের আটকের পর গভীর রাত পর্যন্ত নানা দেনদরবার করেও কোন সুরাহা হয়নি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও মারপিটের অভিযোগে মামলা করা হয়। রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান জানান, আসামিদের আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পাংশা উপজেলা সভাপতি চাঁদ আলী খাঁনকে অব্যাহতির বিষয়ে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবুর সাথে কথা বললে, তার অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত
করেন।