ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধা সাতটায় ভাঙ্গা উপজেলার শুয়োদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে জয়নাল, আরিফ, সেতু, নুরুন নবী ও শহিদুলের পরিচয় পাওয়া গেছে। এছাড়া ডিমবাহী পিকআপ ভ্যানের চালক ও হেলপারের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টির মধ্যে সন্ধ্যার দিকে আলগী ইউনিয়নের শুয়োদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ডিমবাহী পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির চালক ও সহযোগীকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
এমন সময় নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের চালক-হেলপারসহ স্থানীয় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাত আটটার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা পাঁচটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ছোট-বড় আরও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন।
সড়ক অবরোধের কারণে দূরপাল্লার বাসসহ স্থানীয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে আতঙ্কিত অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে চলে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী নির্মল দাস।
তিনি বলেন, “হঠাৎ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক যাত্রী ভয় পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে নিরাপদ স্থানে চলে যান।”
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ডিমবাহী একটি গাড়ি সড়কের ওপর উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির চালক ও সহযোগীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা লোকজনের ওপর একটি যাত্রীবাহী বাস উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে ফরিদপুর জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ কাজ করছে।