ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই এবং আগস্টে আমাদের অনেক ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেক ভাইকে গুম করা হয়েছে। আয়নাঘরগুলোয় আমাদের ভাইদের বন্দি করে রাখা হতো। কী অপরাধ ছিল? আমাদের অপরাধ একটাই, এই সমাজের ছাত্রদের আল্লাহর দ্বীনের পথে আহ্বান করি। আমরা এই সমাজের ছাত্রদের নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে চাই। তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না। বরং যারা ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের কাছ থেকে ছাত্রদের ছিনিয়ে নিয়ে এসে আল্লাহর গোলামির উপযোগী এবং এ সমাজের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই— এজন্য এটা আমাদের অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর রাসুলের যুগে ফেরাউনের পর নমরুদের আগমন ঘটেছিল। এরপর হামান ও কারউন এসেছিল। তাদের কাজ কিন্তু একই ছিল। সাম্প্রতিকালে আমাদের দেশেও একজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদায়ের পর আরেকজন ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ বাংলার মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।’
জাহিদুল ইসলাম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শুক্রবার রাতে কাশিনগর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে নির্বাচনি ছাত্র প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাসিম মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবুল বাশারের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক আলা উদ্দিন আবির, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহ মিজানুর রহমান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন রনি, বর্তমান সেক্রেটারি নুর ইসলাম মোল্লা, কাশিনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মহসিন কবির, চৌদ্দগ্রাম সদর শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হক, পৌরসভা সভাপতি হোসাইন আহমেদ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাশিনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামের শিবির সভাপতি এবং সেক্রেটারিসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ ছাত্র। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাশিনগর বাজারে মিছিল করে নেতাকর্মীরা।