হোম > সারা দেশ > ঢাকা

অনুসন্ধানে জানা গেল চার কারণ

ফতুল্লায় বারবার গ্যাস বিস্ফোরণে আতঙ্কে স্থানীয়রা

আবু সাউদ মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি বিস্ফোরণে দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপের তারতম্য, অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং অসাবধানতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।

জানা গেছে, গত ১১ মে সকালে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শওকত হোসেন গাজীর ভাড়া বাড়িতে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। আহতরা হলেন আব্দুল কাদের, তার ছেলে এবং পরিবারের আরো দুই সদস্য।

বাড়ির মালিক শওকত হোসেন জানান, সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে গিয়ে দেখেন আগুনে পরিবারের সদস্যরা ঝলসে গেছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও ফ্রিজ প্রায় অক্ষত থাকলেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় দরজা-জানালা ছিটকে পড়ে গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এর মাত্র একদিন আগে ১০ মে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় আরেকটি বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

ওই ঘটনায় দগ্ধ গৃহবধূ সালমা জানান, পরিবারের সবাই ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে তার স্বামী কালাম রান্নাঘরে গিয়ে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিকট শব্দে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রাণ বাঁচাতে সবাই কোনোরকমে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি ঘটনায়ই বিস্ফোরণের আগে ঘরে গ্যাস জমেছিল। ভোরবেলায় চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। একই ধরনের ঘটনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানকার গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের তারতম্য রয়েছে বলে জানান বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না, গভীর রাতে গ্যাস আসে। এতে অনেক সময় চুলার ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত চুলা বন্ধ না হওয়ায় গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, এলাকায় অনেক শিল্পকারখানা অনিয়মিতভাবে চালু ও বন্ধ হয়। কোনো কোনো কারখানা কয়েক দিন চালু থাকার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসলাইনে চাপ ওঠানামা করে, যা অনেক সময় আবাসিক লাইনে প্রভাব ফেলে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় এখনো অসংখ্য অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তদারকি না থাকায় এসব লাইনে প্রায়ই লিকেজের ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে যে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটছে, তা অবৈধ সংযোগের কারণেও হতে পারে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তাধীন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

এক সপ্তাহে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ফতুল্লার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিয়মিত লাইনের তদারকি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

এসিল্যান্ডের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলের কারণে হামের প্রাদুর্ভাব হয়েছে: জিয়াউদ্দিন হায়দার

পদ্মায় ৫০ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না বিদ্যুৎ, বিপর্যস্ত জনজীবন

হাটবাজার, বালুর মাঠ বাসস্ট্যান্ড সবই পেলেন ক্ষমতাসীনেরা

সোনারগাঁয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ভাঙচুর, লুটপাট

মুন্সীগঞ্জে ৩০ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, হাতকড়াসহ পালালেন নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা রেকর্ড ছাড়াল

৩০ ঘণ্টা পর যমুনা নদী থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার