হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারে শোকের ছায়া

উপজেলা প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। সন্তানদের লেখাপড়াসহ পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নিহত বাচ্চু মিয়া মৃত্যুকালে রেখে গেছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে ছোট মেয়ে একজন প্রতিবন্ধী। প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। এখনও থামেনি সন্তানদের চোখের পানি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নিহত বাচ্চু মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বাচ্চু মিয়াদের সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র চার শতক ভিটাবাড়ি। এক শতাংশ জমির ওপর ১৬ টিনের একটি দোচালা ঘরে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তার পরিবার। জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান বাচ্চু মিয়া। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

হঠাৎ সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাচ্চু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পুরো সংসার। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে—কে ধরবে এই সংসারের হাল, এমন প্রশ্নই ঘুরছে সবার মনে।

নিহতের বড় ছেলে মো. তাহসিন (১৫) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেয়ে মোছা. ছিদ্দিকা (১৩) সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে মোছা. খাদিজা আক্তার প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

বাচ্চু মিয়ার বড় মেয়ে ছিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন আমাদের খোঁজখবর কে নেবে? বাবা তো আর ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলবে না। আমরা কি আর বাবার লাশটা শেষবারের মতো দেখতে পারব না? আমার আব্বার লাশটা দেশে এনে দিন।

নিহতের স্ত্রী জোছনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা। বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করত, সেই টাকায় আমাদের সংসার চলত। এখন তাকে হারিয়ে আমরা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি। সন্তানদের পড়ালেখা কীভাবে চালাব, সংসার কীভাবে চলবে কিছুই বুঝতে পারছি না। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা, জামায়াতের পক্ষ থেকে ১১ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৫ হাজার টাকা ও দুই বান টিন প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশটির আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে বাচ্চু মিয়াসহ দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। অপর নিহত ব্যক্তির বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। এ ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির কাছাকাছি একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এ মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পদ্মায় ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার তেলবাহী লরি

গাজীপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ল কাভার্ড ভ্যান, ঝরতে থাকা ডিজেল নিতে ভিড়

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২৪ হাজার লিটার তেলসহ পদ্মায় ডুবল লরি

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পায়ের রগ কেটে ফেলা শিক্ষকের মৃত্যু

মাদারীপুরে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় ৮৬ জ‌নের বিরুদ্ধে মামলা

মানিকগঞ্জে আকস্মিক সরকারি দপ্তর পরিদর্শনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

কাপাসিয়ায় আলোচিত গরু চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক

সৌদি আরবে বজ্রপাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, স্ত্রীসহ ৪ সন্তানের আহাজারি

মানব পাচার মামলায় কুষ্টিয়া থেকে স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার