গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না গন্তব্যের বাস। অনেক অপেক্ষা কিংবা কাউন্টারের পর কাউন্টারে দৌড়াদৌড়ির পর বাসের দেখা পেলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকাআপ ও মিনি ট্রাকে করে বাড়ির উদ্দেশে রাওয়ানা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, মিলগেট, চেরাগ আলী, কলেজগেট, গাজীপুরা এলাকার প্রতিটি বাস স্টপেজ ও টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
শিল্পনগরী টঙ্গীর শত শত পোশাক ও অন্যান্য কারখানা নির্বাচনের জন্য ছুটি ঘোষণা করায় হাজার হাজার কর্মচারি-কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় ভোট দেওয়ার জন্য একযোগে রওনা দেন। সকাল থেকে যাত্রীর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। কেউ কেউ ট্রেনযোগে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করে ভোররাত থেকে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অপেক্ষা করেও ট্রেনে উঠতে না পেরে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
ময়মনসিংহগামী সাবিনা আক্তার, কামাল হোসেন, আলম, আব্দুর রহিম, সোনিয়া আক্তার, শাহিন আলম, রুমাসহ অনেকে জানান, সকাল থেকে টঙ্গী স্টেশনরোডে বাসের জন্য অপেক্ষা করেও না পেয়ে বাধ্য হয়ে পিকআপে করে দিগুণ ভাড়া দিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে। সাধারণত ময়মনসিংহের বাস ভাড়া ২০০টাকা হলেও আজকে বাসের টিকেট ৫০০টাকা এবং পিকআপের ভাড়া ৪০০টাকা আদায় করা হচ্ছে।
টঙ্গীর কাঁঠালদিয়া এলাকার বিল্লাহ রিসোর্স পোশাক কারখানার শ্রমিক আবু সাঈদ জানান, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাচ্ছি। কিন্তু বাসের টিকেট ৫০০ টাকার জায়গায় ৬৫০টাকা ভাড়া নিচ্ছে। শুনেছি রাস্তায় জ্যাম আছে, বাড়ি যেতে না পারলে তো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবো না।
এদিকে জামালপুরগামী দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের জন্য ভোররাত থেকে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অপেক্ষা করছেন হাবিবুর রহমান, আল-আমিনসহ আরও অনেকে। তারা জানালেন, ভোররাত সাড়ে ৫টা থেকে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের জন্য রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর সোয়া ১টা বাজে, এখনও কোনো ট্রেনে উঠতে পারিনি। ট্রেনের ভেতরেতো কোনো জায়গা নেই, কোনো ট্রেনের ছাদেও জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বিকেল সোয়া ৪টার ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় আছি।
এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের (টঙ্গী জোন) পরিদর্শক জহির মজুমদার বলেন, মহাসড়কে যাত্রীর তুলনায় দূরপাল্লার বাস সংকট। রাতে যেসব বাস দেশের দূরদূরান্তের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে সেগুলো এখনো ফিরতে পারেনি। তাই গাড়ির সংকটে যাত্রীরা নিষেধ করা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও মিনিট্রাকে করে বাড়ি যাচ্ছেন।