হোম > সারা দেশ > ঢাকা

হাওরে মাছ ধরা বন্ধ, অর্ধাহারে অনাহারে জেলেরা

সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

দেশের অন্যতম প্রধান মৎস্যভান্ডার কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলেও এবারই প্রথম ‘মৎস্য প্রজনন মৌসুমে’ এক মাসব্যাপী মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তবে নিষিদ্ধ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করায় মাঠ পর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প পেশা না থাকা এবং কোনো ধরনের সরকারি খাদ্য সহায়তা বা নগদ প্রণোদনা ছাড়া এই ‘নিষেধাজ্ঞা’ বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সাধারণ জেলে, সামাজিক সংগঠন ও খোদ মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চলতি মৎস্য প্রজনন মৌসুমে গত ২৮ মে থেকে আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনের হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল, নদ-নদী ও ভাসান পানিতে সব প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে হাওরাঞ্চলের তিন উপজেলায় হাটবাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও মাইকিং প্রচারণাসহ নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করছে মৎস্য বিভাগ। তবে প্রশাসনের এই দায়সারা প্রচারণায় পেটের তাগিদে সাড়া দিচ্ছে না জেলেরা।

​মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৯০ জন। এর মধ্যে অষ্টগ্রামে ৮ হাজার ৭৭৯ জন, ইটনায় ১২ হাজার ৯৩৪ জন এবং মিঠামইনে ১১ হাজার ৪৭৭ জন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নিবন্ধিত তালিকার বাইরেও বিশাল সংখ্যক মৌসুমি জেলে রয়েছেন। সব মিলিয়ে তিন উপজেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যা আরো অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার বাড়বে। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পরিবার সরাসরি এই সংকটের মুখে পড়েছে।

​হাওরের বুক চিরে বেঁচে থাকা সাধারণ ও মৌসুমি জেলেরা জানান, প্রতিদিন মাছ ধরে তা হাটে বিক্রি করেই চলে তাদের সংসার। এর বাইরে তাদের অন্য কোনো বিকল্প পেশা বা আয়ের উৎস নেই। আকস্মিক এই মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্তে এখন তাদের না খেয়ে মরার উপক্রম হয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া এবং চিকিৎসাসহ পরিবারের নিত্যদিনের খরচ।

​এক ফসলি এই হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধানের ব্যাপক ফসলহানি ঘটেছে। ফলে প্রান্তিক কৃষকরাও ধান কাটা শেষে এই বর্ষা মৌসুমে হাওরে মাছ ধরে নিজেদের খাদ্য চাহিদা পূরণ ও পরিবারের দৈনিক খরচ মেটাতেন। কিন্তু মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আসায় কৃষক ও জেলে উভয় পক্ষই চরম সংকটে পড়েছেন। খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনা ছাড়া এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

​অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের জেলে বিশ্ব চন্দ্র দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ রাখলে তো পেটের খিদা বন্ধ থাকবে না। আমরা সরকারি নিষেধ মানতে চাই । একই চিত্র দেখা গেছে পার্শ্ববর্তী মিঠামইন উপজেলাতেও। সেখানকার কাটখাল ইউনিয়নের জেলে আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা সরকারি আইন মানতে বাধ্য । তবে সরকারও সমানভাবে আমাদের সাহায্য করতে হবে। একমাস মাছ না ধরলে, খামু কী? বউ পোলাপান নিয়ে চলিতো এই মাছ বেচার ট্যাকায়।’ ইটনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিব দাস বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ না ধরতে সর্বাত্মক প্রচারণা ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি। তবে জেলেদের বিকল্প জীবিকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মাঠপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। নিষিদ্ধ সময়ে জেলেরা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়ায় তাদের জীবিকার্জন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই মৎস্যজীবীদের পক্ষ থেকে সরকারি খাদ্য সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনার যে দাবি উঠেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক।

কোটালীপাড়ায় ব্রিজে বড় গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

ব্রাজিল সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন

কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মিলন গ্রেপ্তার

হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব, বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা

চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্বোধন

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের

পাঁচ শর্তে নির্ধারিত হবে স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী: নাসিক প্রশাসক

শিবচরে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

আড়াইহাজারে ডাকাতের হামলায় এসি ল্যান্ডসহ আহত ৬