ভোট উৎসবে যোগ দিতে বাড়ির পথে মানুষ
ভোট উৎসবে যোগ দিতে বাড়ির পথে রওনা হওয়া মানুষের ভিড়ে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে যানজট। যাত্রী ও পরিবহন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ যেন ঈদের আমেজ।
ভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছে চাকরিজীবী মানুষ। ভোট উৎসবে যোগ দিতে রওনা দিয়েছে বাড়ির পথে। একযোগে ঢাকা ছেড়ে মানুষ পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে এসে উত্তরাঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে রওনা হচ্ছে। লঞ্চ ও ফেরিতে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারা পার হতে পারছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে দুই ঘাট ঘুরে। ভোট দিতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, গ্রামের বাড়ি যশোরে যাচ্ছি ভোট দিতে। আবু সাঈদ, কুদ্দুস মিয়া, সবাই ভোট দিতে যাচ্ছেন পাবনা অঞ্চলে। সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বাসায় যাচ্ছি ভোট দেওয়ার জন্য। আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তাই ভোট দেওয়ার জন্য আনন্দ নিয়ে বাসায় যাচ্ছি, কিন্তু পরিবহন ভাড়া একটু বেশি হওয়ায় কষ্ট লাগছে।
একই কথা বলেছেন সুবহান। তিনি দুঃখ করে বলেছেন, ‘১৭ বছর পরে ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। গত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। তবে রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, পরিবহন মালিকেরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। তাই কষ্ট হচ্ছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখতে পাইনি।’ তিনি আরো বলেন, একটি নতুন সরকার গঠন করতে গ্রামে যাচ্ছি অথচ কোথাও নিরাপত্তা নেই, কষ্ট হচ্ছে দেখে।’
গাড়ির চালক আবুল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা সকালে এসেছি। ভিড়ের কারণে এখনো ফেরিতে জায়গা পাইনি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পাব বলে আশা করছি। এসব ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরার কারণে হঠাৎ করে ঘাটে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিনের মধ্যে যানজট থাকবে না বলে আশা করছি।
একই ব্যাপারে লঞ্চ মালিক ওয়াসিম মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সিরিয়াল মেন্টেন করতে একটু সমস্যা হচ্ছে, তবে এটা ঠিক হয়ে যাবে। স্পিডবোটের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিরিয়াল ধরে যাত্রী পার করছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই জনজট থাকবে না।’