নরসিংদী পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতি উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ করা ১০ কেজি চাল থেকে অভিনব কায়দায় জনপ্রতি এক থেকে দেড় কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
নরসিংদী পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন সুবিধাভোগীর প্রত্যেককে ১০ কেজি চাল দেওয়ার জন্য ৩০ কেজি বস্তার ১ হাজার ৫৪০ বস্তা আসে পৌরসভায়। গত সোমবার এ চাল বিতরণ শুরু হয় এবং গত বৃহস্পতিবার বিতরণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা । সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি উপকারভোগী চাল নিয়ে গেছে বলে জানান পৌরসভার সচিব মাহফুজুর রহমান। তবে বিতরণের সময় সুবিধাভোগীর কাছ থেকে এক-দেড় কেজি করে চাল রেখে দিচ্ছে এমন অভিযোগের উত্তরে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক সুবিধাভোগী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিপসই দিয়ে কত কষ্ট করে চাল নিয়েছি। তবে চাল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে ওজন দিয়ে দেখি মাত্র ৮ কেজি ৯০০ গ্রাম চাল রয়েছে। অথচ আমাকে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামসুন্নাহারের অভিযোগ, ‘১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা, এর মধ্যে বাড়ি এনে ওজন দিয়ে দেখি চাল আছে ৯ কেজি। আমাদের ন্যায্য অধিকার আমরা না পেলে কার কাছে যাব? আমরা গরিব মানুষ, আমাদের আসলে নীরবে সহ্য করা ছাড়া কোনো পথ নেই। প্রতিবাদ করলে ভিজিএফ কার্ড ফেরত নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয়।’
একাধিক সুবিধাভোগীর অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের দেওয়া ভিজিএফ কার্ডের চাল প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে বরাদ্দ থাকলেও তাদের দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি।
যারা চাল বিতরণ করছেন, তাদের মধ্যে একজন মতিউল্লাহ। তার কাছে চাল কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমরা বস্তাপ্রতি চাল কম পাই, তাই কিছু কম করে চাল দিচ্ছি। এর বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।’
এলাকার সচেতন মহল বলেন, ‘৪ হাজার ৬২৫ জন সুবিধাভোগীকে এক কেজি করে কম দিলে ৪ হাজার ৬২৫ কেজি চাল, যা প্রায় ১৫৫ বস্তা চাল তারা কৌশলে রেখে দিচ্ছেন। আর সেই চাল সুবিধামতো সময়ে কৌশলে আত্মসাৎ করবেন। এটা আসলে দুঃখজনক। আমাদের প্রত্যেককে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছালেহ্ উদ্দিন জানান, ‘আমাদের গোডাউন থেকে যে চালের বস্তাগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে যায়, সেই বস্তার কোনোটিতেই চাল কম থাকার সুযোগ নেই। তবে প্রতি বস্তায় এক-দেড়শ গ্রাম এদিক-সেদিক হতে পারে ‘
এ বিষয়ে নরসিংদী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা) এফ এম নাঈম হাসান শুভ জানান, প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চাল কোনো বছর আসে না। এইমাত্র কয়েকটি পৌরসভায় খোঁজ নিলাম, সব জায়গায় একই অবস্থা। এ ছাড়া ৯ কেজি ৫০০ গ্রামের নিচে চাল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘোড়াশাল সেন্টার, মাধবদী সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এভাবেই দিচ্ছে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন জানান, বিষয়টি জেনেছি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।