ভোটের লড়াই শেষে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের বিজয়ী ও পরাজিত দুই প্রার্থীর আলিঙ্গন, ফুল-মালা ও মিষ্টিমুখে রাজনৈতিক কোলাহলের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে বিরল মানবিকতার এক আলোকিত মুহূর্ত।
রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম। রাজনৈতিক উত্তাপের পর এমন দৃশ্য এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকালে দুই প্রার্থী একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন এবং মিষ্টিমুখ করান। নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের এই প্রকাশ অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যেমে শুরু হয় প্রশংসার ঝড়।
টঙ্গিবাড়ী বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন (৬৮) বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি। একজন প্রার্থী হেরে গিয়ে আরেকজনকে বুকে জড়িয়ে ধরছে, মিষ্টি খাওয়াচ্ছে—এই দেশে এটাও সম্ভব?’ কথা বলতে বলতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে যোগ করেন, ‘আল্লাহ, দেশের রাজনীতিতে এমন পরিবেশ যেন ভবিষ্যতেও বজায় থাকে। মানুষ এভাবে মিলেমিশে থাকলেই শান্তি আসবে, দেশও এগিয়ে যাবে।’
সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক গাজী আব্দুল আলিম, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক ইশতিয়াক আহমেদ, সিরাজদিখান উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ, জাতীয় ছাত্র শক্তির যুগ্ম-সমন্বয়ক মাহমুদুল হাসান, এনসিপি সদস্য সাকিব বেপারী, জামায়াতে ইসলামের সুরা সদস্য হেমায়েত উদ্দিন, টঙ্গিবাড়ী থানা আমির মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও সাবেক আমির আব্দুল বারী প্রমুখ।
আলোচনায় দুই প্রার্থীই লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, হার-জিত নয়—মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য; যে কোনো গঠনমূলক উদ্যোগে তিনি পাশে থাকবেন।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে সহযোগিতার এই বার্তাই এখন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।