গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা শ্রীপুর–মাওনা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় আব্দুস সাহিদ সুপার ভিউ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন—রবিউল ইসলাম (২৫), জাকির হোসেন (৩২), ইয়াসিন মিয়া (৩৭) ও সালাউদ্দিন। তারা সবাই ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা এবং ব্যবসার কাজে মাওনা এলাকায় এসেছিলেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত ১১টার দিকে ভবনের সামনে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুনের ফুলকি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের ফলে সাততলা ওই ভবনের কয়েকটি কক্ষেও আগুন ধরে যায়। ভবনটিতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গুদাম ও আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঈদকে সামনে রেখে আশপাশের মার্কেটগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম থাকায় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেকেই দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নূরুল করিম বলেন, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে ইয়াসিন মিয়ার শরীরের ৫৪ শতাংশ, জাকির হোসেনের ২৬ শতাংশ, রবিউল ইসলামের ১৫ শতাংশ এবং সালাউদ্দিনের ২ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ইয়াসিন মিয়াকে জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।